প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক, দুই, তিন… লাশ নাম্বার ৭০!

প্রভাষ আমিন : সাংবাদিকতা পেশাটা খুব ইন্টারেস্টিং। একদিনের সাথে আরেকদিনের কোনো মিল নেই। কোনো কোনো দিন নিউজরুমে থাকে একেবারেই ডাল। আবার কোনো কোনো দিন প্রবল উত্তেজনা। তবে মাঝে মাঝে পেশাটিকে খুব নিষ্ঠুর মনে হয়। লাশের সংখ্যা গোনার মতো নিষ্ঠুরতা আর কিছু হয় না। কিন্তু প্রায়শই এই নিষ্ঠুর কাজটি আমাদের করতে হয়। তখন মনে হয় এই পেশা কি, আমাদের মানবিকতা কেড়ে নিচ্ছে, নিষ্ঠুর বানিয়ে ফেলছে?

বরাবরের মতো এবারও সবার প্রস্তুতি ছিলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন কাভার করার। কিন্তু সব পরিকল্পনা লন্ডভন্ড করে দেয় চকবাজারের আগুন। রাতেও বোঝা যায়নি আগুন কতোটা ভয়াবহ। আগুন নেভার পর ভোররাতে উদ্ধার করতে গিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসে লাশ, পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়া, অঙ্গার হয়ে যাওয়া মানুষের মরদেহ। সাংবাদিকরা গুনতে থাকে লাশ নাম্বার এক, লাশ নাম্বার দুই, লাশ নাম্বার তিন… লাশ নাম্বার সত্তর। প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান। একটি মানুষের জীবন মানে অনেক স্বপ্ন, অনেক সম্ভাবনা। কিন্তু আগুন এক লহমায় পুড়িয়ে দেয় সব স্বপ্ন, সব সম্ভাবনা।

একজন মা যখন সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে আর্তি জানায়, নিজেকে খুব অসহায় লাগে। একজন পিতা যখন ৭০টি লাশের মুখে খুঁজে ফেরে সন্তানের মুখ, নিজেকে খুব নিষ্ঠুর মনে হয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যখন চলছে অমর একুশের গ্রন্থমেলা; তখন চকবাজারের চুড়িহাট্টায়, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে, মর্গের সামনে রচিত হচ্ছে কতো হৃদয়বিদারক কাহিনী। এ কাহিনী কল্পনার নয়, নিষ্ঠুর বাস্তব।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য শোকের দিন। কিন্তু ৬৭ বছরে ভাষা আন্দোলনের শোক অনেকটা থিতিয়ে এসেছে। এখন আমরা কথা বলি, একুশের চেতনা নিয়ে, অর্জন নিয়ে। কিন্তু এবারের একুশ আবার শোকের চাদরে ঢেকে দিলো গোটা বাংলাদেশ। এমন একুশ আর কখনো না আসুক।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত