প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাল, গম ও চিনি আমদানি কমেছে

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে চাল, গম ও চিনি আমদানি কমেছে। গত বছরের শেষ ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি খোলার পরিমাণই এ কথা বলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে সার্বিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ আমদানি হ্রাস পেয়েছে। এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২৭.১২ শতাংশ। অবশ্য এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ১০.৭৮ শতাংশ।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছে, দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের উৎপাদন বাড়ায় আমদানি কমছে।

তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে শূন্য শুল্কের সুবিধা নিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রচুর চাল আমদানি করে মজুদ রেখেছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় এখন তারা চাল আমদানি করছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আউশ মৌসুমে ধান উৎপাদন হয়েছে ২৭ লাখ মেট্রিক টন। একই অর্থবছরের আমন মৌসুমে ধানের উৎপাদন ছিল এক কোটি ৩৯ লাখ মেট্রিক টন। আর বোরো ধানের উৎপাদন ছিল এক কোটি ৯৫ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে দেশে মোট ধান উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৬২ লাখ মেট্রিক টন। বোরো ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৮.৩৩ শতাংশ। ধানের পাশাপাশি ওই অর্থবছরে গম উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে বিদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য, গার্মেন্ট, ওষুধ পণ্য, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে দুই হাজার ৯৩২ কোটি ৯ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আর এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে দুই হাজার ৭৩১ কোটি ৯২ লাখ ডলারের।

আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের শেষ ছয় মাসে আমদানির জন্য এলসি খোলা হয় চার হাজার ২৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের। আর এলসি নিষ্পত্তি হয় দুই হাজার ৪৬৬ কোটি পাঁচ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে ২০১৭ সালের ছয় মাসের চেয়ে ২০১৮ সালের একই সময়ে এলসির পরিমাণ কমেছে এক হাজার ৯১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ২৭.১২ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের শেষ ছয় মাসে চাল আমদানিতে এলসি কমেছে ৯৭.৪২ শতাংশ। এই সময়ে তিন কোটি ৫৬ লাখ টাকার এলসি খোলা হয়েছে। ২০১৭ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ১৩৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।

গম ও চিনি আমদানিতেও এলসি হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গম আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ২৮ শতাংশ আর চিনি আমদানিতে এলসি কমেছে ৫০ শতাংশ। একই সময় গম আমদানিতে ৭৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের আর চিনি আমদানিতে ২৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়।

কিন্তু আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের একই সময় (জুলাই-ডিসেম্বর) গম আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছিল ১০৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের। আর চিনি আমদানিতে ৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেঁয়াজ, ফল, ভোজ্যতেল ও ওষুধ আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে। কিন্তু ডাল, দুগ্ধজাত খাবার, তেল বীজ, তুলা, সুতা, গার্মেন্টপণ্য, ক্লিংকার ও সিমেন্ট আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল উৎপাদন হচ্ছে, মজুদও আছে। দেড় বা দুই বছর আগে যেসব চাল আমদানি করা হয়েছে, সেগুলো স্টকে পড়ে আছে। লোকসান দিয়েও বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশাল অঙ্কের টাকাও আটকে রয়েছে। এমন অবস্থায় আমদানির প্রয়োজন পড়ছে না। উদ্বৃত্ত চাল থাকায় এখন আর চাল আনার প্রয়োজন পড়ছে না।’

সর্বাধিক পঠিত