প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুরান ঢাকায় রাসায়নিক কারখানা কেন?

দীপক চৌধুরী : পুরান ঢাকার নিমতলিতে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পর ধারণা করা হয়েছিলো এমন নিষ্ঠুর মৃত্যু যন্ত্রণায় আর পুরান ঢাকার মানুষকে মরতে হবে না। ২০১০ সালের তিন জুনের ওই ঘটনায় ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিলো। এরপর কয়েকমাস প্রশাসনের কড়াকড়ি লক্ষ্যনীয় ছিলো পুরান ঢাকায়। কিন্তু ২০১৯ সালে এসে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নানারকম প্রশ্নের উদ্রেক করে সচেতন মানুষদের। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরাতন ঢাকার চকবাজার এলাকায় রাজ্জাক ভবনে ভয়ানক অগ্নিকা-ে প্রায় ৮০ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক আহতের ঘটনায় ( ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত) শোক প্রকাশ আর আমাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া যেন কিছু করার থাকে না। টেলিভিশন ‘লাইভ’-এ এই ভয়াল ঘটনার পর ভয়ংকর দৃশ্য দেখে লাখ লাখ মানুষ নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছেন। সৃষ্ট আতঙ্ক ও রাতের অন্ধকারে আগুনের লেলিহান শিখা যখন বাড়ছিলো তখনও একটিই প্রশ্ন মানুষের মনে আঘাত করে, ‘পুরান ঢাকায় কারা রাসায়নিক গুদামের অনুমতি দেয়?’ অবশ্য প্রশ্ন করে যাওয়াই সার। উত্তর পাওয়া কঠিন। এটাই বাস্তবতা। রাত যতোই বাড়ছে আগুনে লাশের মিছিলও বাড়ছিলো। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করেছে সর্বশক্তি দিয়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে উদ্ধারকৃত মরদেহ আনা হয় ঢাকা মেডিকেলে। সরু গলি হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। রাত শেষে সকালে দেখলাম ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর নিহত মানুষের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে এমনটিই ধারণা দিলেন। টেলিভিশনের খবরে বারবার যে অভিযোগটি শুনলাম তা হচ্ছে, রাজ্জাক ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক দ্রব্যের কারখানা ছিলো। বৃহস্পতিবার অবস্থা সরেজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে গিয়ে যা শুনলাম, তাতে বিস্মিত হয়েছি। এখানে রাসায়নকি দ্রব্যের কারখানা, বডি লোসনের কারখানা এক-দুইটি নয়, শত শত। ২০১০ সালে অর্থাৎ তখনই দাবি উঠেছিলো পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে বিপজ্জনক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নেয়ার। প্রশাসন থেকে আশ্বাসও দেওয়া হয়। সেই দাবি ও আশ্বাস কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে? এই এলাকার বাসিন্দা পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তি জানালেন, রাত ১০টা ১০ মিনিটে নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাতে একটার দিকে পাশের কয়েকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার গ্যাস লাইন থেকেও ওই সময় আগুন বের হচ্ছিলো। এই ভয়াল ঘটনার আগে সংশ্লিষ্টদের বহুবার জানানোর পরও কঠিন অ্যাকশন নেওয়া দূরের কথা দায়ীদের অর্থ ও ক্ষমতার কাছে সবাই হয়ে গেলেন চুপ। অ্যাকশন ছিলো না কোথাও! এলাকার সাধারণ মানুষের আশা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তারা বিশ্বাস করেন, আস্থা রাখেন, এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ীদের কাউকে ছাড় দেবেন না। লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি ও ঔপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত