প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাহিত্য-সংস্কৃতির পৌরহিত্য করার একটা বয়স থাকা উচিত

স্বকৃত নোমান : কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে সম্ভবত গুরুবাদ ব্যাপারটা থাকে। থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বলছি যে, অধিকাংশের মধ্যেই থাকে। কবিদের মধ্যে থাকে না। কবিরা উদ্ধ্যত। সবকিছুকে অস্বীকার করার একটা প্রবণতা তাদের মধ্যে কাজ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি গুরুবাদী। প্রবাদ, ‘শেখো মাথা নিচু করে, বাঁচো মাথা উঁচু করে।’ আমার চেয়ে যে একটু হলেও বেশি জানেন, তার কাছ থেকে আমি মাথা নিচু করেই শিখি। আর যে মূর্খ, বয়সে বড় হলেও, তাকে এড়িয়ে চলি কিংবা সম্পর্কটা হাই-হ্যালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি। আমার গুরুর সংখ্যা বিস্তর। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেমন তেত্রিশ কোটি দেবতা, তেমনি আমার গুরুর সংখ্যাও তেত্রিশ কোটি। পৃথিবীর সকল মহান লেখক আমার মানসগুরু। যেমন তলস্তয়, দস্তয়ভস্কি, জোলা, স্তাঁদাল, হেমিংওয়ে, রবীন্দ্রনাথ, মার্কেজ, মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর, জীবনানন্দ, ওয়ালীউল্লাহ, দেবেশ, ইলিয়াস প্রমুখ। বাংলাদেশে আমার গুরুর সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেককে কাছ থেকে দেখেছি, মিশেছি, শিখেছি। অনেকে প্রয়াত, অনেকে জীবিত। ইদানীং লক্ষ করি, জীবিত গুরুদের মধ্যে অনেকের স্খলন ঘটে গেছে। তারা পড়ালেখা কিচ্ছু করেন না। যাকে-তাকে লেখক স্বীকৃতি দিয়ে দেন। অনেকটা ‘ধর মুরগি জবাই কর’ টাইপের ব্যাপার ঘটিয়ে দেন। জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘সবাই বলে অমুক ভালো মানুষ।’ তারা বোঝেন না, ভালো মানুষ আর ভালো লেখকের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক। একজন ভালো মানুষ যে ভালো লেখক হবেন তেমন কোনো কথা নেই। গুরুগণ, আপনাদের বয়স হয়েছে। চাকরিরও একটা বয়স থাকে। সাহিত্য-সংস্কৃতির পৌরহিত্য করারও একটা বয়স থাকা উচিত। দুঃখজনক হলেও সত্য, আপনারা সেই বয়সটা পার করে ফেলেছেন। এবার আপনাদের অবসরে যাওয়া উচিত। লেখক : কথাসাহিত্যিক। ফেসবুকে থকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত