প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান আজিজুল হকের প্রতিবাদলিপি নিয়ে সাহিত্য জগতে বিতর্কের ঝড়

অনলাইন ডেস্ক : অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯- এ প্রকাশিত হয় মাসরুর আরেফিনের উপন্যাস ‘আগস্ট আবছায়া’। বইটির কভারের পেছনে লেখাতে উল্লেখ আছে ঔপন্যাসিক হাসান আজিজুল হকের নাম, কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি হাসান আজিজুল হক গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে ওই লেখাতে তাকে সংশ্লিষ্ট করাকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

এদিকে হাসান আজিজুল হক এবং মাসরুর আরেফিনের মধ্যে মধ্যস্থতা করে কভারের লেখাটি সংগ্রহ করেন সাংবাদিক মারুফ রায়হান। তিনি হাসান আজিজুল হকের প্রতিবাদলিপি অসত্য বলে দাবি করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ইতোমধ্যেই হাসান আজিজুল হক-মারুফ রায়হান-মাসরুর আরেফিনের এ ঘটনার পক্ষে এবং বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মন্তব্য শুরু করেছেন দেশের সাহিত্যিক বোদ্ধারা।

এ প্রসঙ্গে কবি ও গীতিকার কামরুজ্জামান কামু এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মাসরুর আরেফিনের উপন্যাস নিয়ে হাসান আজিজুল হকের ভাষ্য সম্বলিত বিজ্ঞাপন প্রচার এবং পরে ভাষ্যটি তাঁর নয় বলে হাসান আজিজুল হকের বক্তব্য প্রদান ব্যাপারটার মধ্যে কোনো না কোনো গণ্ডগোল আছে। মাসরুরের লেখার শক্তি সম্পর্কে যাঁদের ধারণা আছে, তাঁরা এইটা কোনোভাবেই বিশ্বাস করবেন না যে, মাসরুর নিজের বই নিয়ে নিজেই লিখে হাসান আজিজুল হকের নামে চালায়া দিছেন!’

এদিকে বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সরকার আমিন মারুফ রায়হানের বক্তব্যের উপর সন্দেহ পোষণ করে মারুফ রায়হানের দেওয়া স্ট্যাটাসের নিচে মন্তব্য লিখেছেন, “মারুফ ভাই, রিভ্যিউ লিখলে সম্মানী দেয় পত্রিকা। প্রকাশকও হতে পারে। লেখক না। কেমন হয়ে গেল না প্রস্তাবটা? আর বইয়ের রিভ্যিউ বই বের হয়ে যাবার আগেই? আমার মনে হয় অনেকে ভাবছেন, সবকিছুই হতে পারে, টাকায়। কথাটা যে মিথ্যা তাও না। পুরস্কার সংগ্রহ কর্মকাণ্ড তাই বলে। দুঃখজনক। কারণ এটাই স্বাভাবিক ‘টাকাবাদী’ সময়ে। ‘হাসান ভাই আমাকে তাঁর ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দেন।’- সত্যি হলে; এটাও একটা প্রশ্ন হয়ে রইল মনে- মারুফ ভাই”।

লেখক ও সাংবাদিক অদিতি ফাল্গুনী একই বিষয়ে একটি ফেসবুল স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি লিখেন, “মন্তব্যের ঘরে এক কবির শেয়ার থেকে প্রাপ্ত দেশের এক নামী অনুবাদকের প্রথম উপন্যাস যা বৃহত্তম পত্রিকার প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে এবং ৭৬ লক্ষ পাঠকের কাছে প্রতিদিন যায় যে সংবাদপত্র, সেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপিত ঐ গ্রন্থের বিজ্ঞাপনে দেশের জীবিত মহত্তম কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘প্রশংসা বচন’ নেবার জন্য এত কাণ্ড করা হয়েছে তা’ অবিশ্বাস্য।

হাসান আজিজুল হকের মত লেখককে নামী অনুবাদক বনাম এবার ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা লেখক প্রশংসা বচন লিখে দেবার জন্য নিজে ও অপর এক কবি ও সাংবাদিককে দিয়ে ক্রমাগত ফোন করিয়ে, ত্রিশ হাজার টাকা ঘুষ দেবার পর্যন্ত প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হবার পর শেষপর্যন্ত বর্ষীয়ান লেখক নিতান্ত নিরুপায় হয়ে এবং পুরো উপন্যাস না পড়েই টেলিফোনে যে দু/এক কথা বইটি সম্পর্কে সৌজন্যচ্ছলে বলেছেন, সেটাই বইয়ের পেছনে লেখা হয়েছে এবং ৭৬ লাখ পাঠকের কাছে পৌঁছানো সংবাদপত্রে এমন প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন (বইয়ের) ছাপা হয়েছে?

কেমন ‘যাদু বাস্তবতা’র মত লাগছে! আমার এই পোস্টের পর কি বৃহত্তম পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক আবার দুই দিনে সাত থেকে আটবার ফোন দেবেন এবং আমি একবারও ধরবো না যেমন ধরি নি দু/তিন সপ্তাহ আগে? তোমাদের ক্রাচ ছাড়া যখন চলতে পারছি, সামনেও পারব আশা করি। বিশ গুণ কষ্ট হবে টিকে থাকতে তবে টিকে থাকতে যে পারব না তা’ নয়।” আজকের পত্রিকা

সর্বাধিক পঠিত