প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইরানের প্রতি সমর্থনে পরিবর্তন আসবেনা: শি জিনপিং
সৌদির সবচাইতে বড় বানিজ্য সহযোগী চীন সফরে যুবরাজ বিন সালমান,

নূর মাজিদ : গতকাল বৃহ¯পতিবার এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে চীন পৌঁছেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এমবিএস। এশিয়ার প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত স¤পর্কবৃদ্ধির লক্ষ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই সফর করছেন। এর আগে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ দুই রাষ্ট্র পাকিস্তান ও ভারত সফর করেন। তবে চীন সফরের মধ্যে দিয়েই যুবরাজ বিন সালমান তার এশিয়া সফরের ইতি টানবেন। আল জাজিরা,আরব নিউজ, শিনহুয়া, খালিজ টাইমস

বৃহ¯পতিবার স্থানীয় সময় সকালবেলা যুবরাজ বিন সালমানকে বহনকারী রাজকীয় বিমানটি বেজিং অবতরণ করে। এই সময় বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত স্বাগত জানান, চীনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান খি লি ফুং। এছাড়াও, সৌদি আরবে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি হুয়া শিন এবং দেশটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও যুবরাজকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি যুবরাজের সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কো¤পানি আরামকোর শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ একটি বড় বানিজ্যিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল এসেছে। শুক্রবার বিন সালমান চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেবেন। এসময় তাদের মাঝে বেশকিছু প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক স¤পর্কের কৌশলগত সহায়তা নিয়েও আলোচনা হবে। বিন সালমান এমন সময় এই সফর করছেন যখন চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুরদের ওপর তীব্র নির্যাতন করা হচ্ছে। এই বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম তাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও, শি-সালমান বৈঠকে উইঘুর নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনা হবেনা বলেই ধারনা করা হচ্ছে। বরং তিনি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে আলোকপাত করবেন।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়ান আশা প্রকাশ করেন, সৌদি যুবরাজের এই সফর দুই দেশের স¤পর্কোন্নয়নে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ আনবে। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে মহাকাশ স্যাটেলাইট নির্মাণ এবং অবকাঠামোখাতে উভয় দেশের মাঝে সহযোগিতা জোরদার হবে। এছাড়াও, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় উভয় দেশের মাঝে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতা বাড়বে। এর আগে মিত্র পাকিস্তানে সৌদি যুবরাজের ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় চীন। সৌদি বিনিয়োগ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে বলেই আশা প্রকাশ করেন গেং শুয়ান।

ভারতের পর চীন সফরেও ইরানের প্রতি দেশটির কূটনৈতিক সমর্থন এবং জ্বালানি নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করবেন সৌদি যুবরাজ। ইতোমধ্যেই, রাশিয়া ও ইরান থেকে চীনের জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ কমিয়ে সৌদি আমদানি বৃদ্ধি করতে দেশটিতে দুটি বিশাল তেল পরিশোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। সৌদি আরামকো চীনের দুটি প্রদেশে এই তেল শোধনাগারদুটি নির্মাণ করবে। ইতোপূর্বে, ২০১৭ সালে সৌদি আরব ও চীন জ্বালানি এবং প্রযুক্তিখাতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চলতি সফরে যুবরাজ ওই চুক্তিকে কার্যকর করার ঘোষণা দিতে পারেন। একইসঙ্গে, বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে গত বুধবার চীন সফররত ইরানের পার্লামেন্ট ¯িপকার আলী লারজানির সঙ্গে সাক্ষাত করেন চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। এসময় শি জিনপিং ইরানি ¯িপকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন এলেও ইরানের প্রতি চীনা সমর্থনের কোন পরিবর্তন হবেনা। এই সময় তিনি, চীন ও ইরানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ স¤পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ