প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শীর্ষে ঢাকা, নিহতের সংখ্যাও বেশি

মহসীন কবির : রাজধানী ঢাকার গত ১ বছরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। হতাহতের ঘটনাও ঢাকায় বেশি। ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের সব বিভাগ থেকে ঢাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ও ক্ষয়-ক্ষতি বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে সারাদেশে ৮ হাজার ৪৬১টি আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, এর ২০৮৮টি ঢাকায়, চট্টগ্রামে ২৮৫ ও রাজশাহীতে ১১৬টি। সারাদেশে ৫০৮টি নৌ দুর্ঘটনার মধ্যে ঢাকায় ১৯৫টি, চট্টগ্রামে ৫৪ ও খুলনায় ৪০টি। এসব ঘটনায় শুধুমাত্র ঢাকায় প্রাণ হারায় ১২১ জন। এক বছরে দেশে ১৬টি ভবন ধ্বসের ঘটনার ১০টি ঢাকায়। এতে ৬ জন নিহত হয়। দেশের গার্মেন্টগুলোতে ১৭৩টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে ১১৫টি ঢাকায়। শিল্প কারখানায় ১১৩১টি আগুনের ঘটনার মধ্যে ৫২৬টি ঢাকায়।

কেন এত দুর্ঘটনার শিকার ঢাকা? জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, ‘ঢাকার ডেনসিটি বেশি। অল্প জায়গায় বেশি মানুষ বসবাস করে। অনেক অপরিকল্পিত ও অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। নতুন নতুন ইলেকট্রিক গ্যাজেট, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জারসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থের প্রাপ্যতা বেশি। তাই ঢাকায় অগ্নিকাÐসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি।’ গত বছর দেশে যত অগ্নিকাÐের ঘটেছে তার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে। তাদের তথ্য বলছে, গত বছর দেশে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে ১৮ হাজারের কিছু বেশি।

গত বছরের সব অগ্নি দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে বিদ্যুতের সর্ট সার্কিট থেকে। এর পরই বেশি আগুন লেগেছে চুলা থেকে। সর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ ক্ষেত্রে। আর চুলা থেকে আগুন লেগেছে ২৩.৪ শতাংশ।
দুর্ঘটনার পাশাপাশি ২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম ও কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর মোট ১ লাখ ৮০ হাজার জনসাধারণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ১১৯ জন গেজেডেট/নন-গেজেডেট অফিসার, ৩৪২ জন ড্রাইভার, ১১৫০ জন ফায়ারম্যান এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৩২০৮ জন কর্মচারীকে।

২০১৮ সালে রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৫ বছরে শিল্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২৩২টি। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ দেয়া হয়েছে বাস্তবে তার পরিমাণ অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। অগ্নিকান্ডের স্থানে ওয়াসার পানির আন্ডারগ্রাউন্ড নেই। দেশের বিদ্যমান ফায়ার স্টেশনেও রয়েছে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট। ফলে বিলম্বে পৌঁছাতে হয় অগ্নিকান্ডের শিকার শিল্পকারখানায়, আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ভবনে এবং বিভিন্ন শপিংমলে, যার ফলে অগ্নিদুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি তেমন কমাতে পারছে না ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

গত পাঁচ বছরে ৬৪৫টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ১৫২টি অগ্নিদুর্ঘটনায় ৮৫ কোটি, ২০১৫ সালে ২১৩টি দুর্ঘটনায় প্রায় ২৮ কোটি ও ২০১৬ সালে ১৯০টি অগ্নিদুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে বাস্তবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট খাতে ক্ষতির শিকারগ্রস্তরা।

২০১৮ সালে ৩১ মার্চে দেওয়া তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে ৬ বছরে অগ্নিকাÐ হয়েছে ৮৮ হাজার। এ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউএসএসএবি)।
২০১২ সালে ২৪ নভেম্বর তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাÐের ঘটনায় ১১১ নিহত হন। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীস্থ নবাব কাটরায় রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হন নারী ও শিশুসহ ১২৪ জন নিহত হন। ২০০৯ সালের ১৩ই মার্চ বসুন্ধরা সিটির আগুন। ওই আগুনে প্রাণহানির তেমন কোনো ঘটনা না ঘটলেও পুরো ঢাকা শহরকে এ ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিলো তীব্রভাবে।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার বস্তিতে লাগা আগুনে প্রাণ হারান ১১ জন। ২০১২ সালে গরীব অ্যান্ড গরিব গার্মেন্টসে লাগা আগুনে নিহত হন ২১ জন। এছাড়া হামীম গ্রুপের অগ্নিকাণ্ডে ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালের ২৮ জুন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্মার্ট এক্সপোর্ট গার্মেন্টস লিমিটেডে আগুনে পুড়ে ৭ নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হন। ২০০৫ সালের এপ্রিলে স্পেকট্রামে অগ্নিকাÐের ঘটনায় ৬৪ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন প্রায় ৮০ জন। ২০১৩ সালে সভারের রানা প্লাজা ধ্বসে ১১০০ শ্রমিক নিহত হন।
এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগরীর চাকতাই এলাকায় বস্তিতে আগুন লেগে ঘুমন্ত অবস্থায় নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে ভেড়া কলোনির ১৩ লাইনের প্রায় ২০০ ঘর পুড়ে যায়। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত