প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভাষা শহীদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা

শিমুল মাহমুদ: ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা বেদীতে এসে পুস্পস্তবক অর্পন করে নিমম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নেতা-কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে। এর আগে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে নেতারা সকাল ৮টায় আজিমপুরে কবরাস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করে। তারা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

সকাল ৬টায় নেতা-কর্মীরা বলাকা সিনেমা হলের কাছে সমবেত হয়ে প্রভাতফেরীতে প্রথমে আজিমপুরে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন যান।

আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদ শফিউর রহমান ও আবুল বরকতের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে চকবাজারে দূর্ভাগ্যবশত যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেই অগ্নিকাণ্ডে যারা নিহত হয়েছে তাদের প্রতি গভীর শোক জানাচ্ছি,সমবেদনা জানাচ্ছি, এবং তাদের আত্মার মাকফেরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে ৫২ ভাষা আন্দোলনের শহীদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারে সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে। আজকে সব জায়গায় মানুষ অকারণে জীবন হারাচ্ছে। এর কারণ সরকারের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থা। তিনি বলেন, রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনার সদইচ্ছা এই সরকারের নেই। তারা চায় যেকোনো ভাবে ক্ষমতায় ঠিকে থাকা।

বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, মহান একুশে আমাদের জাতীয় জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য একটি দিন। ১৯৫২ সালে এই দিনে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্র ভাষায় পরিণত করবার জন্য আমাদের অকুতোভয় সন্তানের প্রাণ দিয়েছে। এবং রক্ষতের বিনিময়ে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্র ভাষায় হিসেবে স্বীকৃতি আদায় তারা করতে পেরেছে এবং সে দিনেই রক্ষিত হয়েছে আমাদের মুক্তির যে চেতনা তার বীজ। এরপর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড লাভ করেছি।

তিনি বলেন, আজকে চরম দূরভাগ্য ও ক্ষোভের বিষয় আমাদের ভাষা আন্দোলন ৫২’র যে চেতনা তা ভুলন্টিত হয়েছে। মূল চেতনা ছিলো গনতন্ত্রের, আমাদের বাক স্বাধীনতার সে স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ এখন একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যিনি গণতন্ত্রের মাতা, যিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সংগ্রাম করেছেন। তাকে শেষ বয়সেও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা এই দিনে তার মুক্তির করছি। হাজারো গণতন্ত্রের সৈনিক যাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয়েছে। সে সকল নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছে অবিলম্বে মুক্তি চাই, এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই।

তিনি আরো বলেন, জনগণের অধিকার হনন করে ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে, সে নির্বাচনকে বাতিল করে, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা একটি পুনরায় নির্বাচন চাই।

এ সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, জয়নাল আবেদীন ফারুক, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তাবিথ আউয়াল, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়া্জ আলী, হারুনুর রশীদ হারুন, আমিরুজ্জামান শিমুল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে মহানগর ঢাকার কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানুল্লাহ হাসান, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ইয়াসীন আলী, হেলেন জেরিন খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম নাসিম, জাসাসের হেলাল খান, শায়রুল কবির খান, সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া জুয়েল, ড্যাবের রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, উলামা দলের শাহ নেসারুল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত