প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রশ্ন, বাংলা ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা কোথায়?

আশিক রহমান : শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পর্যায়ের জাতীয় অবস্থা এবং বৈশ্বিক অবস্থা আকাশ পাতাল বদলে গেছে। এখন আমাদের রাষ্ট্র, জাতি, সংস্কৃতি এবং ভাষার উন্নতির জন্য নতুন লক্ষ নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে লেখকদের মধ্যে যথেষ্ট সচেতনতা আছে বলে মনে হয় না। কারণ বাইরের প্রভাব, বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাবে আমাদের চিন্তা-ভাবনায় দারুণ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদ, প্রশাসক, বিচারপ্রতি ও শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই তাদের ছেলে-মেয়েকে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্যে, অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশে নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রতি তাদের আন্তরিক অনুরাগ নেই। জন্মগতভাবে তারা বাংলাদেশের নাগরিক বটে কিন্তু তাদের পছন্দ অন্য দেশ। আজকের পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় এসব বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা বিচার-বিবেচনা দরকার। লক্ষ্য স্থির করে আমাদের পূনর্গঠন করতে হবে। জাতীয় ভাষা বিকশিত ও উন্নতি করতে হবে। জাতীয় সংস্কৃতি উন্নতি করতে হবে। বিশ্বায়নের নামে এসব পরিত্যাগ করলে ভুল হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হব বলেন, উন্নত জাতিগুলোর প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি আমাদের গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু তাদের উপনিবেশবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী নীতি আমাদের পরিহার করে চলতে হবে। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশ চলছে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদী নীতি নিয়ে। এখানে মৌলিক পরিবর্তন দরকার। পরিবর্তন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, জাতীয়তাবাদী এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী নীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমাদের প্রশাসন ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা এসব আমাদের জাতির প্রয়োজনে গঠন করতে হবে। সর্বোপরি গণতন্ত্র সম্পর্কে আমাদের নতুন ধারণা লাগবে।
তিনি বলেন, এই যে ভাষা শহিদদের নামে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, ভাষা শহিদদের নামে রাস্তা-ঘাট করা হচ্ছে, ভাষা শহিদদের নামে স্ট্যাচু তৈরি করা হচ্ছে, ভাষা শহিদদের নামে তো অনেক কিছুই করা হচ্ছে বিপুল টাকা সরকার খরচ করে। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো গাফলতি নেই। কিন্তু যে জায়গায় আমাদের শঙ্কিত হওয়ার হওয়ার কারণ সেটা হলোÑ বাংলা ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা কোথায়?
তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষায় কেবল অফিস চালালেই হবে? আমরা কি গত ৪৫ বছরে একটা ভালো উপন্যাস পেয়েছি? ভালো কিছু ছোটগল্প পেয়েছি? আমাদের সেই কবি কোথায়? শামসুর রাহমান, আল মাহমুদের পরের কবি অনেকটা আশাপ্রদ নয়। জাতির সৃষ্টিশীলতা দরকার বাংলা ভাষার মাধ্যমে। এই সৃষ্টিশীলতার দারুণ ঘাটতি রয়েছে। সরকার কিছু সরকারি বুদ্ধিজীবী তৈরি করে। সরকারি বুদ্ধিজীবী দিয়ে দুনিয়ার কোথাও কোনোকালে সৃষ্টিশীল কাজ হয় না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, আদালতের নির্দেশনা এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অবাঞ্ছনীয়। আদালতের নির্দেশ দিয়ে পৃথিবীর কোথাও ভাষার, সাহিত্যের, সংস্কৃতির উন্নতি হয়? আদালতের নির্দেশ দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেরও কিছু বিষয় স্থির করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ দিয়ে ইতিহাস ঠিক করা তো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বাংলা ভাষার লেখক, গবেষক, চিন্তাবিদদের। তারপরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। কেবল শিক্ষানীতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষানীতি আমরা মেনে চলব কিন্তু তার বাইরেও অন্তত যথার্থ শিক্ষা ছাত্রদের দেওয়ার জন্য নানাভাবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চেষ্টা করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত