প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র বললেন মাইকেল কুগেলম্যান

নূর মাজিদ : পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের পূর্ণদ্যমে যুদ্ধ শুরু হোক এমনটি চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তবে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সীমিত আকারে বিশেষ বাহিনীর অভিযান বা বিমান হামলাকে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন, দেশটির উড্রো উইলসন সেন্টার ফর স্কলারের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান। একাধারে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি বিষয়ের একজন বিজ্ঞ পর্যবেক্ষক। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান কি হবে তা ব্যাখ্যা করেছেন। রেডিফ নিউজ

কুগেলম্যান জানান, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় অনেক জটিল। এখানে অর্থনীতি, ধর্ম এবং ঐতিহাসিক শত্রুতা প্রতিনিয়ত রাজনীতির সামগ্রিক চিত্রের পরিবর্তন আনে। ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভারসাম্য এইসব বিষয়ের মাঝে ব্যাল্যান্স করার ওপর নির্ভর করে।

আফগানিস্তানে তালেবানদের মদদ দেয়া নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে তারা আফগান যুদ্ধে তাদের পরাজয় অবশ্যসম্ভাবি সে কথাও বুঝতে পারছে। ফলে তারা মার্কিন সেনা প্রত্যাহার পূর্ববর্তী সময়ে তালেবানদের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্ততা চায় যুক্তরাষ্ট্র। তাই মার্কিন স্বার্থরক্ষায় পাকিস্তানকে আবারো প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, চীনকে মোকাবেলায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে বড় মিত্র ভারত। দেশটির সঙ্গে কৌশলগত স¤পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স¤পর্ককেও অপরিসীম গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পক্ষেপ নেয়ার ভারতীয় অবস্থানকে ইতোমধ্যেই সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রা¤েপর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। যদিও, যুদ্ধপিপাসুখ্যাত বোল্টন ভালো করেই জানেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভারসাম্যে রাতারাতি পরিবর্তন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র, পুলওয়ামা হামলার কারণে পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত যে প্রতিশোধ নিতে চাইছে তার গুরুত্বও বুঝতে পারছে। এই ইস্যুতে এখন নয়া দিল্লীকে সমর্থন না দেয়া হলে ভবিষ্যতে চীন বিরোধী জোট গঠন যে হুমকির মুখে পড়বে তা ওয়াশিংটনের অজানা নয়। তাই ওয়াশিংটন নিশ্চিতভাবেই ভারতীয় দাবিকে অগ্রাধিকার দেবে। তবে এই ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মাঝে পূর্ণদ্যমে যুদ্ধের চাইতে বরং পাকিস্তানে সীমিত বিমান হামলার অপশনকে অধিক সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত