প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বললেন, দেশের ভালো যা কিছু অর্জন এনে দিয়েছে আওয়ামী লীগ

সমীরণ রায়: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান এনেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠাই। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভালো যা কিছু অর্জন তা এনে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারই।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘একুশে পদক প্রদান-২০১৯’ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের বার্ষিক সভায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশ্ব জুরে আজকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। এর পর জাতিসংঘের মহাসচিব আমার আমন্ত্রণে ঢাকায় আসলে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে এই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। আবার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নির্মাণ কাজ শুরু করে। এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে গবেষণা হয়। এ গবেষণা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলাভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। এই পথ অনুসরণ করে আমিও যতবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছি, বাংলা ভাষায়ই দিয়েছি। বাংলা ভাষা আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছি। এই ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য ধরে রাখা আমাদেরই দায়িত্ব। আজকে যারা ২১ শে পদক পেয়েছেন তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুণি। বাংলাদেশ যেন সম্মানের সঙ্গে চলতে পারে, স্টোই আমার লক্ষ্য। ২১ আমাদের শিখিয়েছে অস্তিত্ব রক্ষার। মাতৃ ভাষাকে রক্ষা। আজকে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। যারা ২১ পদক পেয়েছেন তাদের প্রতিও জানাই সম্মান। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে, আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে এই পদক তুলে দেন। একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার, সম্মাননাপত্র ও চেক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার একুশে পদকপ্রাপ্তদের একটি সোনার মেডেল ওই দুই লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী প্রয়াত আজম খানের পক্ষে তার কন্যা ইমা খান এবং অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার মেয়ে প্রজ্ঞা লাবণী। এছাড়া পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যরা সশরীরে উপস্থিত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে তিনজন হুইলচেয়ারে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেন। মনোয়ারা ইসলাম হুইল চেয়ারে করে পদক নিতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির আসন থেকে নেমে এসে সামনের কাতারে এসে মনোয়ারা ইসলামের গলায় পদক পরিয়ে দেন।

এবার একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেন-অধ্যাপক হালিমা খাতুন (ভাষা আন্দোলন, মরণোত্তর), অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু (ভাষা আন্দোলন), সুবীর নন্দী (শিল্পকলা, সংগীত), আজম খান (শিল্পকলা, সংগীত, মরণোত্তর), খায়রুল আনাম শাকিল (শিল্পকলা, সংগীত), লাকী ইনাম (শিল্পকলা, অভিনয়), সুবর্ণা মুস্তাফা (শিল্পকলা, অভিনয়), লিয়াকত আলী লাকী (শিল্পকলা, অভিনয়), সাইদা খানম (শিল্পকলা, আলোকচিত্র), জামাল উদ্দিন আহমেদ (শিল্পকলা, চারুকলা), ক্ষীতিন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য (মুক্তিযুদ্ধ), ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ (গবেষণা), ড. মাহবুবুল হক (গবেষণা), ড. প্রণব কুমার বড়–য়া (শিক্ষা), রিজিয়া রহমান (ভাষা ও সাহিত্য), ইমদাদুল হক মিলন (ভাষা ও সাহিত্য), অসীম সাহা (ভাষা ও সাহিত্য), আনোয়ারা সৈয়দ হক (ভাষা ও সাহিত্য), মইনুল আহসান সাবের (ভাষা ও সাহিত্য), হরিশংকর জলদাস (ভাষা ও সাহিত্য)। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত