প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাসোগজি হত্যা ও অর্থনীতির সম্প্রসারণ; এশিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক চান বিন সালমান

নূর মাজিদ : এই প্রথমবারের মতো এশিয়া সফরের কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যাকা- ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশে^র দেশগুলোর সঙ্গে শীতল সম্পর্ক ও সৌদি আরবকে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশ থেকে বের করে আনতে যুবরাজের অর্থনৈতিক সংস্কার ও সম্প্রসারণের প্রেক্ষিতে এই সফর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোতে বিনিয়োগ করে আসা সৌদি আরব যে এবার দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চলের দেশগুলোতে বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে তা নিয়েও কিছুটা উৎকণ্ঠিত পশ্চিমা গণমাধ্যম। ব্লুমবার্গ, সিএনএন, নিউজ এশিয়া, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমস

অর্থনৈতিক দুর্দশায় কাতর পাকিস্তানের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশটিতে ২ হাজার ১শ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিন সালমান ও তার সৌদি প্রতিনিধি দল। তবে পাকিস্তানের তুলনায় প্রতিবেশি ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশটির বিকাশমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে চীনকেও অতিক্রম করে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের প্রধান রপ্তানি পণ্য জ্বালানি তেলের দর নিয়ে উদ্বিগ্ন বিন সালমান ও তার সরকার। তাই তেল রপ্তানি নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে গত বছরেই একটি বৃহৎ বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করে সৌদি আরব।

মরূভূমিতে ডাভোসখ্যাত ওই বিনিয়োগ সম্মেলন প্রত্যাশিত বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যাকে কেন্দ্র করে সে সময় অনেক পশ্চিমা কো¤পানি ওই সম্মেলন বর্জন করে। তাই বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ভারতে সৌদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিগত বছরের নভেম্বরেই ভারতীয় ইংরেজি ভাষার দৈনিক ইকোনমিক টাইমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব।

গত বুধবার ভারত সফরে এসে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রুপ দিলেন সৌদি যুবরাজ। আগামী দুই বছরের মধ্যেই এই বিনিয়োগ করা হবে বলে জানালেন তিনি। ভারতের তথ্য প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সৌদি আরবের উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। সৌদি নীতি নির্ধারকদের আশা এই সকল খাতের আয় সৌদি অর্থনীতির জ্বালানি রপ্তানি নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। যা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন-২০৩০ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান অংশ।

তবে অর্থনীতির মধ্যে দিয়েই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি করছেন বিন সালমান। ইরান-ভারত বন্ধুত্বের স¤পর্কে এবার চিড় ধরাতে চাইছে সৌদি আরব। যার ভিত্তি পার¯পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মজবুত করাটাও এই বিপুল বিনিয়োগের প্রধান উদ্দেশ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত