প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিমত অর্থনীতিবিদদের, নতুন ব্যাংকের অনুমোদনে আর্থিক খাতে অশুভ প্রতিযোগিতা ও আমানত সংকট বাড়বে

রমজান আলী : অতিসম্প্রতি নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকার। দেশের অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিতে হয় অর্থনৈতিক বিবেচনায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নতুন আর কোনো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। আরো নতুন ব্যাংক হলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অশুভ প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং আমানত সংকট আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা। নতুন তিনটি ব্যাংককে অনুমোদন দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক দিতে হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক দেয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই। এমনি বিভিন্ন সংকটে রয়েছে ব্যাংক। আগে সেগুলো ঠিক করতে হবে। এছাড়া এমনিতে বেসরকারি ৪০টি ব্যাংক রয়েছে। সেগুলোর সেবারমান আগে বাড়ানো হবে। দেশের সার্বিক যে পরিস্থিতি তাতে আর কোনো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, দেশে আর কোনো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। এমনি দেশে অনেক ব্যাংক হয়ে গেছে। দেশে আরো নতুন ব্যাংক হলে অশুভ প্রতিযোগিতা বাড়বে। এমনি এখন অনেক ব্যাংক আমানত সংকটে রয়েছে। তাই নতুন ব্যাংক হলে তখন আরো আমানত সংকট দেখা দিবে। নতুন ব্যাংক হলে বেসরকারি ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। কারণ, তখন আমানত সংগ্রহ করতে একটি চ্যালেঞ্জ থাকবে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হবে। আর তখন উচ্চ সুদে ঋণ বিতরণ করতে হবে। এমনি এখন তেরো-চৌদ্দ শতাংশ ঋণ দিতে হচ্ছে। তখন আরো উচ্চ সুদে ঋণ দিতে হবে। তাই তখন ঋণ নেয়ার জন্য গ্রাহক পাওয়া যাবে না।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি দেশের আর কোনো নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই, আগে ৫৯টি ব্যাংক ছিলো এইটা যথেষ্ট ছিলো। এখন আরো ৩টি ব্যাংক অনুমোদন হয়েছে। সর্বমোট এখন ৬২টি ব্যাংক হয়েছে। তাই আর কোনো ক্যাংকের প্রয়োজন নেই।

বিশ্লেষকরা বলেন, সম্প্রতি তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন দেশে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ৬২। বিদ্যমান ব্যাংকগুলো পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে আবার নতুন করে তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হলো। এটি আসলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের জন্য সুখকর নয়। বরং এগুলো বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে। কারণ, অর্থনীতির আকার অনুযায়ী দেশে ৩০ থেকে ৩৫টি ব্যাংক পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এখন ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২টিতে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই, এ কথা বার বার বলা হয়েছে। আগের ৯ ব্যাংক অনুমোদনের আগে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত : একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন পেশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছিল, প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার আয়তন, জনসংখ্যার ঘনত্বের তুলনায় বাংলাদেশে নতুন ব্যাংক দেয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কিন্তু এ প্রতিবেদনকে তোয়াক্কা না করে ওই সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও সরকারের বাইরে নয়। এ কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কোনো উপায় থাকে না। এ কারণে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়।

সম্প্রতি, তিনটি ব্যাংককে কার্যক্রম শুরু করার জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৬২ তে উন্নীত হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে গত রবিবার রাতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যাংক তিনটি হল – বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, দ্য সিটিজেন ব্যাংক ও পিপলস ব্যাংক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত