প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিনা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ব্যয়ের সঙ্গে বাড়ছে চিকিৎসার ঝুঁকি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হ্যাপি আক্তার : নিজের খেয়াল খুশিমতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে গিয়ে বহু রোগীর চিকিৎসা ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে অতিচিকিৎসার ঝুঁকি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, রেফারেন্স ছাড়া বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া ঠেকাতে হবে জেনারেল প্রাকটিশনার রেফারেন্স’র ব্যবস্থা। এর জন্য মেডিকেল শিক্ষাতেও পরিবর্তন আনার তাগিদ তাদের। চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল একটি উচ্চতর শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখানকার বিশেষজ্ঞদের প্রায় সারাদিনই কেটে যায় রোগীদের পরামর্শ দিতে। বেশিরভাগ রোগীই দেখা যায় সাধারণ রোগ নিয়ে আসছেন। যার জন্য বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন পড়ে না।

রোগীরা বলছেন, পিজিতে ভালো ডাক্তার বসে শুনে এখানে আসা। এই হাসপাতালে পরীক্ষার মানও ভালো। তাছাড়া এখানে আসলে ভালো হবে, এই আশায় আসা।

খেয়াল খুশি মতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর এই প্রবণতাকে বদঅভ্যাস বলছেন বিশেষজ্ঞরা। জেনারেল প্রাকটিশনার রেফারেন্স ব্যবস্থা বাংলাদেশেও গড়ে তোলা সময়ের দাবি বলে মনে করেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। উপজেলা থেকে শুরু করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এই ব্যবস্থা। তাহলে রোগীদের অতি-চিকিৎসা যেমন কমে যাবে তেমনি ব্যয়, সময়, ঝামেলা সবই কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়ার্ল্ড অরগানাইজেশন অফ ফ্যামিলি ইক্টরস’র সভাপতি প্রফেসর কানু বালা বলেছেন, একজন মানুষের সর্দি হলে সে চলে যায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে। তিনি একগাধা পরীক্ষা নীরিক্ষা করেন। কিন্তু যখন পুনরায় চিকিৎসার জন্য আসেন দেখা যায় এটি করার কোনো দরকারই নেই। কিন্তু তার তো দুর্ভোগ হলো।

দেশের বেশিরভাগ মানুষ কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন এটি পরিচিত বন্ধু স্বজনের মতামতের ভিত্তিতে কিংবা নিজেই ঠিক করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এমনকি থাইল্যান্ড, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকায় এটা সম্ভব নয়। এসব দেশে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ নির্দিষ্ট অনুমোদিত জেনারেল প্রাকটিশনারের কাছে শুরুতে যান। শুরুর চিকিৎসা তিনিই দেন। প্রয়োজন মনে করলে তিনি বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করেন।
বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অফ হেলথ সায়েন্সস এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেছেন, আমাদের যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেখানে এমবিবিএস বা প্যারামেডিকেল ডাক্তার থাকেন, সেখান থেকে একটি রেফারেন্স পদ্ধতি হওয়া দরকার। সেখানে থেকে তার রেফারেন্স ছাড়া উচ্চ জায়গায় যাওয়া যাবে না। এই ধরনের বিষয় আমাদের স্বাস্থ্যখাতে আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জিপি সিস্টেমের ভিত্তিতে যদি প্রাথমিক স্তরে করতে পারি। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের জন্য যেন অপেক্ষা করতে না হয়, তাহলে দেখা যাবে অল্প সময়ে ও কম খরচে চিকিৎসা হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি রশীদ ই মাহবুব বলেছেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করাতে বেসিক ডাক্তারদের আগ্রহ দরকার হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কতগুলো সুযোগসুবিধাও বাড়াতে হবে।

অসুখ বিসুখে নিজের খেয়াল খুশিমতো দুএকটা ওষুধ খাননি, কিম্বা চিকিৎসকের কাছে যাননি এমন মানুষ দেশে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাই সচেতনতা বাড়নো তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। সম্পাদনা : জামাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত