প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নওগাঁয় নদীর চরে বেড়েছে আলুর আবাদ, বাম্পার ফলেনের সম্ভবনা

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদীর চরে আলুর চাষ করেছেন কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রম ও খরচ কম হওয়ায় নদীর চরে বেড়েছে আলুর আবাদ। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। এ বছরের মতো আগামী বছরও আবহাওয়া ভাল থাকলে চরে আরো বেশি পরিমাণ আলুর আবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর উন্নত উপশি জাতের কাটিনাল, ডায়মন্ড ও অ্যারিস্টরি জাতের ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ষাইটা, লাল ও সাদা পাপড়ি আলুর আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে মান্দা উপজেলায় ৪ হাজার ৩শ হেক্টর, সদরে ২ হাজার ৫২০ হেক্টর, বদলগাছী ৩ হাজার ১০ হেক্টর, রানীনগর ১ হাজার ৩৮ হেক্টর, আত্রাইয়ে ২ হাজার ৮শ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, পত্নীতলায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর, ধামইরহাটে ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর।

জানাগেছে, জেলার বদলগাছী উপজেলার পারসোমবাড়ী বাজার, তাজপুর, নাজিরপুর ও এনায়েতপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনা নদীর চর। এক সময় যেখানে ফসলি জমি ছিল, সেখানে নদী ভাঙনের ফলে এখন চরে পরিনত হয়েছে। আর এ চরে এখন পলি পড়ে হয়েছে বেঁলে দোঁআশ মাটি। ফলে এ এলাকার কৃষকরা এখন নদীর চরে আলু আবাদ করেছেন।

স্বল্প পরিশ্রম ও কম খরচে চরাঞ্চলে ভাল ফলন হওয়ায় এ বছরে বেড়েছে আলুর আবাদ। অন্য জমিতে যেখানে বিঘাপ্রতি ৯-১০ হাজার টাকা খচর ও বিঘাপ্রতি ৫০ মন হারে ফলন হয়, সেখানে চরের মাটিতে ২-৩ হাজার টাকা কমে ৭০-৮০ মনের মতো ফলন হয়ে থাকে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। অর্থ্যাৎ শীত কম ও কুয়াশাও তেমন নাই। ফলে রোগ বালাই কম হওয়ায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, এখন যেখানে আলুর আবাদ করা হচ্ছে গত ১৫-২০ বছর আগে সেখানে আবাদি জমি ছিল। নদী ভাঙনের ফলে সেগুলো ভেঙে এখন চর হয়ে গেছে। চরের উপর পলি পড়ে এখন বেঁলে দোঁআশ মাটি হয়েছে। গত ৩-৪ বছর থেকে এ চরে আলুর আবাদ করা হচ্ছে। এ বছর এক বিঘা জমিতে দেশীয় আলুর আবাদ করেছি। গাছও মোটামুটি ভাল হয়েছে। আর কয়েকদিন পর তোলা হবে।

একই গ্রামের কৃষক জুয়েল হোসেন, ইসরাফিল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা হলে আলুর জন্য ক্ষতিকর। এ বছর আলু চাষের জন্য আবহাওয়া খুবই উপযোগী। প্রতিবছর আলুর পেছনে কীটনাশকে প্রায় ৩ হাজার টাকার মতো খরচ করতে হতো। এবছর রোগবালাই না থাকায় বিঘাপ্রতি প্রায় হাজার টাকার মতো কীটনাশক কম কিনতে হয়েছে। এছাড়া চরের মাটিতে হালচাষ এবং সার ও ঔষধ কম লাগে। পরিশ্রমও কম হয়। ফলন ভাল পাওয়া যায়। এমন আবহাওয়া আগামী বছর থাকলে আলুর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হলে আলুর ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

অপর কৃষক জুলফিকার আলী বলেন, এবছর চরের মাটিতে চারবিঘা জমিতে ষাইটা আলুর আবাদ করেছেন। প্রতিবছর চরের মাটিতে আলুর আবাদ বাড়ছে। মাঠের জমিতে হালচাষ করে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। কিন্তু চরের মাটিতে সেটা করতে হয়না। তুলনামূলক কম খরচে ও স্বল্প পরিশ্রমে আলুর আবাদ করা হয়।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদুর রহমান বলেন, এ বছর আলু চাষে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে বাড়তি ৫শ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান এবং কৃষকদের প্রনোদনা দেয়ায় এবছর আলুর আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে। গাছগুলো তরতাজা ও ভাল হওয়ায় কৃষকরা ফলনও ভাল পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ