প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভূয়া-জালিয়াতির মাধ্যমে খাস জমিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভুক্তভোগিদের অসন্তোষ

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জালিয়াতির মাধ্যমে খাস খতিয়ানভূক্ত জমি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে স্থানীয় সমচেতন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনাসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে মোটা অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে নালিশী জমিতে বিদ্যালয় স্থাপন তথা জাতীয়করণ হওয়ায় ওই জমির ওয়ারিশগণের মধ্যে এ নিয়ে নানা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে খাস খতিয়ানভূক্ত ১২ শতক জমিতে আন্দুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিকে ওই জমিটি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা বিভাগ আইন-আদালতের কোন তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী মহলের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় স্থাপন না করার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে নানা অনিয়ম-জালিয়াতি ও আশ্রয়-প্রশয় গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাদীপক্ষের দায়েরকৃত মামলা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়টি জাতীয়করনও করা হয়।

এদিকে, গত ২০১৫ সালের ৮ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয় (নং-৬৮/১৫ অন্য)। ভূয়া জমিদাতা আব্দুস সালাম সরকার নানা আইনী শুভঙ্করের ফাঁক-ফুঁকুরের ছত্রছায়ায় জমিটি শিক্ষা বিভাগের নিকট হস্তান্তর করেন।

পরে উক্ত জমির প্রকৃত ওয়ারিশগণ বিজ্ঞ আদালতে ভূয়া জমিদাতা আব্দুস সালাম সরকারসহ শিক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট ২৭ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। এ সংক্রান্ত আরো একটি পৃথক মামলা আদালতে (নং-১৬/১৫ অন্য) বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি মিস কেস (নং-১৩/১৬-১৭) তদন্তাধীন রয়েছে। প্রচলিত আইন মোতাবেক ওই জমিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আইনগত কোন ভিত্তি নেই।

অপরদিকে, প্রতিষ্ঠাকালীন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূন্য থাকলেও কেবলমাত্র কাগজ-কলমে ভূয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে বিদ্যালয় পরিচালনার নিমিত্তে দায়সারা একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ভূয়া জমিদাতা সালাম গং স্বার্থন্বেষী মহল বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি কমিটির তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিল করেন। বিদ্যালয় স্থাপনে আইনগত ভিত্তি এবং শুভঙ্করের ফাঁকি ও চাতুরতার বিষয়টি নিয়ে বাদীপক্ষ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পর্যায় ছাড়াও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ উর্ধতন বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

এতে উল্লেখ থাকে যে, আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খাস খতিয়ানভূক্ত ১২ শতক জমির কথিত দলিল নং-৩২২৮, তাং-২৬/০৬/২০১১ মূলে জেএল নং-৪৫ ও ৬৭৪ দাগের জমি (যার খারিজ কেস নং-৭০/ ৯৯-২০০০) ভূয়া দেখানো হয়।

পক্ষান্তরে উক্ত তফশীলভূক্ত জমির কবুলিয়ত দলিল নং-৬৫২২, তাং-১১/০৪/১৯৬৯ মূলে বন্দোবস্ত গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। প্রকৃত ওয়ারিশগণের অংশসূত্রে প্রাপ্ত জমির তথ্য গোপন করে জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণের বিষয়টি পরবর্তিতে ফাঁস হয়ে পড়ে। উপজেলা শিক্ষা অফিস তথা উপজেলা যাচাই-বাচাই কমিটি, গাইবান্ধা জেলা ও রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পৃথক পৃথক ৪টি তদন্ত প্রতিবেদন প্রমাণিত হওয়ায় নালিশী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে গৃহীত খারিজ পর্চা (যার নং-১৪১/১১-১২) অপরটি (যার নং-১০৮১/১৩-১৮) উপজেলা ভূমি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ তা বাতিলের আদেশ প্রদান করেন।

সময়ের ব্যবধানে সকল আবেদন-নিবেদন ও আপত্তি সমূহ উপেক্ষা করে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাখার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মোটা অংকের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিতর্কিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাছিনাতুল ফেরদৌসির দায়েরকৃত মিস কেস (নং-৯৬/২০১৪) এর অনুকুলে পলাশবাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের মিস কেনং-১৬/১৩-১৪ রদরহিত করে ১০৮১/১৩-১৪ নং নামজারী কেস পূণর্বহাল বিষয়ক আপীল আবেদন মঞ্জুরের আদেশ দেন বলে বাদী পক্ষ দাবি উত্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, বিদ্যালয়টির ভবিষ্যত আইনগত ভিত্তির বিষয়টি চিন্তা তথা বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিসহ বিরাজমান অনিয়ম-জালিয়াতির কারণ সমূহ উদঘাটনে মামলার বাদীপক্ষগণ দূর্ণীতি দমন কমিশনসহ শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদয় জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত