প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাংবাদিক পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রাজাপুর থানার ওসি’র বিরুদ্ধে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলা রাজাপুর থানার উত্তমপুর গ্রামের ঢাকায় কর্মরত দৈনিক আমাদের অর্থনীতির পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রমজান আলী পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ঘটনা না জেনেই রাজাপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন সাংবাদিক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কিছুদিন যাবত হয়রানি করছে। জানা যায়, একই গ্রামের নুপুর বেগম (৩৫) নামে মহিলা থানায় গিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজাপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন সাংবাদিক পরিবারের বয়স্ক বাবা-মা এবং ছোট দুই ভাই স্কুলের ছাত্র তাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেন। মামলা নং-১১, তারিখ ১৮-২-২০১৯।

ভুক্তভোগী আবুল হোসেন হাওলাদার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা গ্রামে বসবাস করেন। ত্রিশ বছর আগে একই গ্রামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেন। সেই জমি ত্রিশ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছি। জমিতে কিছু গাছ ছিলো সেগুলো মাস খানেক আগে বিক্রি কওে দেই। গাছ কাটার সময় কোন বাধা বা নুপুর নামে সেই মহিলার পরিবারের কেউ এসে বলেনি যে তারা জমি পাবে। যখন গাছ গাড়িতে নিয়ে যাবে তখন নুপুর বেগম নামে এক মহিলা এসে বলে তারাও নাকি এখানে জমি ক্রয় করেছে। তাই তারা গাছ ও জমি পাবে। প্রথমে তারা এলাকার কাউকে বলেনি।

দ্বিতীয়ত মহিলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। আদালত থেকে পুলিশকে তদন্ত করতে নির্দেশ প্রদান করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শেষে কিছু গাছ রেখে বাকি জমির গাছ নিয়ে যেতে বলে। পুলিশ যেভাবে বলেছে সেইভাবে গাছ নিতে গেলে নুপুরসহ তার পরিবার বাধা দেয়। কারণ, তিনি সব জমির গাছ আটকাতে চেয়ে ছিলো। সেটা তিনি পারেনি। বাধা দিয়েও যখন আটকাতে পারেনি। নুপুর তখন নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে থানায় গিয়ে ওসিকে বলেছে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হয়েছে। ওসি এই কথা শোনার পর প্রকৃত বিষয়টি না আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে।
এব্যাপারে সাংবাদিক রমজান আলী বলেন, মিথ্যা মামলাটি না নেয়ার জন্য ওসিকে রাজাপুর উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব সোহাগ এবং আমিসহ একাধিক লোক নিষেধ করা সত্ত্বে তিনি সবার কথা উপেক্ষা করে এই মামলাটি নেন। তবে আমার বিশ্বাস তিনি যে কোন বিনিময়ে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, রাজাপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি আহসান হাবিব সোহাগ, বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বড়ইয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম মন্টু, বড়ইয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা মহারাজ ও বড়ইয়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহবুদ্দিন সুরু মিয়াসহ আরোও অনেকই এই বিষয়টি কয়েকবার আপোষ-মিমাংসা করার জন্য বসেছেন। কিন্তু এই মহিলা কারো কথা শুনছেন না।

এব্যাপারে জানতে চাইলে রাজাপুর উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমি নিজেই এই মামলাটি না নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কারণ, এটা একটি জমাজমির বিষয়। এছাড়া আমি শুনেছি যে, এটা আপোষ-মিমাংসা জন্য এলাকার কয়েকজনে বসেছে। সেখাসে কেন ওসি মামলা নিলেন আমি বুঝতে পারছি না।

এব্যাপারে জানতে চাইলে রাজাপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি আহসান হাবিব সোহাগ বলেন, বিষয়টি জমাজমি বিরোধ। কাগজপত্র দেখে আমরা আপোষ-মিমাংসা চেষ্টা করছি। ওসিকে অনুরোধ করা সত্ত্বে কেন মামলাটি নিলেন তা জানা নেই।

এব্যাপারে বড়ইয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা মহারাজ বলেন, আমার সবাই ওসিকে অনুরোধ করছি মামলা না নেয়ার জন্য। যে এটা আমরা আপোষ-মিমাংসা করার চেষ্টা করতেছি। তারপরেও সে মামলা নিয়েছে। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে রাজাপুর থানার ওসি বলেন, আমার কাছে এসে বলেছে এজাহারকারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই আমি মামলা নিয়েছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত