প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা পাকিস্তানের পরীক্ষিত বন্ধু: পাকিস্তান সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য

সময় এখন ডটকম : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবরণ করা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে পাকিস্তানের সংসদে চলছে তুমুল আলোচনা। সেই সাথে তাকে কারাবাস দেয়ায় চিরশত্রু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও বিষোদ্গার এবং তীব্র নিন্দা চলমান।

পাকিস্থান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ (ন্যাশলাল অ্যাসেম্বলি)-তে জাতীয় সংসদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে এক অধিবেশনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানের প্রিয় মিত্রদের নিধন করছে বাংলাদেশের ভারতপন্থী সরকার। তারা নির্মম নিপীড়নের শিকার। বেগম খালেদা শুধু বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতাই নন, পাকিস্তানের বহু পরীক্ষিত একজন মিত্র। তাকে অন্যায্যভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অবশ্যই এর নিন্দা জানানো উচিৎ।’

পাকিস্তানের সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট অধিবেশনে অন্তত ৪ জন এমপি বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করায় বাংলাদেশ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। পাকিস্তান পত্রিকা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পত্র পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে পাকিস্তান পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তান পার্লামেন্ট নিন্দা ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে অধিবেশনে থাকা পার্লামেন্ট অধিবেশনে অবশ্য কোনো নিন্দা বা শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি। তবে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ৪ জন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন।

হরিপুরের এম.এন.এ বাবর নেওয়াজ খান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। ভারত বিরোধীতা করার জন্যই তাকে এই নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে।’ ওই সদস্য আরও বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্থানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী ছিলেন এবং এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’ তার থেকে একধাপ উঁচুতে বক্তব্য রাখেন ইসলামাবাদ থেকে নির্বাচিত ড. তারিক ফজল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এর আগে বিচারের নামে প্রহসন করে বাংলাদেশে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের হত্যা করা হয়েছিল। এবার ইসলামী ধারা রাজনীতির প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া দরকার।’

রওয়ালপিন্ডির এম.এন.এ রাজা মোহাম্মদ জাভেদ ইসলামও পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘পাকিস্থানের একজন বন্ধুকেও বাংলাদেশে বাঁচিয়ে রাখবে না। বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামী নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ আসলে ভারতের ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের বশ্যতা স্বীকার করে নাই বলেই তাকে জেলে যেতে হয়েছে। প্রায় অনুরুপ বক্তব্য রেখেছেন সারগোদার এম.এন.এ মোহসিন রেজা নেওয়াজ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের বশ্যতা স্বীকারকারীদের শাসন চলছে। বেগম জিয়া এই বশ্যতা স্বীকার করেননি, এজন্যই তাকে জেলে যেতে হয়েছে।’

পার্লামেন্টে অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব গৃহিত হয়নি।

বাংলাদেশেও বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার আগে ও পরে বিএনপি নেতৃবৃন্দ দুই দফায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে কূটনীতিকরা বিষয়টি আদাললেত বলে এড়িয়ে গেছেন। তবে একমাত্র পাকিস্তানই বেগম জিয়াত ব্যাপারে সরব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত