প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ম, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা সংকীর্ণতা-কিছুই তো কমছে না

তসলিমা নাসরিন

ময়মনসিংহের মানুষ হিসেবে আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) আমার কিছুটা গর্ব হলো। কালও হয়েছিলো। দু’দিনই নাট্য উৎসবে দেখানো হলো মৈমনসিংহ গীতিকা। কাল মনীশ মিত্রের কঙ্ক আর লীলা, আর আজ হলো গৌতম হালদার পরিচালিত মহুয়া। মনীশ মিত্র আর গৌতম হালদার দুজনই আমার প্রিয় নাট্যকার, প্রিয় নাট্য পরিচালক। ঢাকায়-কলকাতায় থাকাকালীন প্রচুর নাটক দেখতাম। এখন বাংলার বাইরে বসে বাংলা নাটক দেখার সুযোগ তো আমার হয় না বললেই চলে। তাই বছর বছর এনএসডির নাট্যোৎসবে বাংলা নাটক এলে পারতপক্ষে মিস করতে চাই না। প্রিয় দু’জনের নাটক দেখলাম প্রায় বারো বছর পর। ওদের প্রতিভার সত্যি কোনো তুলনা হয় না।

কাল আর আজ মৈমনসিংহ গীতিকার গল্প আর গানগুলো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম ধর্ম আর জাতপাত থেকে মানুষ এখনও মুক্তি পায়নি। এখনও হিন্দু-মুসলমানে বিরোধ লেগেই আছে, এখনও জাত প্রথা টিকে আছে, এখনও বড় জাত ছোট জাতকে ঘৃণা করে, এখনও সাপের ফণার মতো হিংসে উঁচিয়ে তেড়ে আসে মানুষ মানুষের দিকে। অথচ মৈমনসিংহের গ্রামাঞ্চলে, আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে ধর্ম আর জাতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ পালাগান বাঁধতো। সেইসব পালাগানে ব্রাহ্মণের সঙ্গে শূদ্রের বিয়ে হতো, মুসলমানের সঙ্গে হিন্দুর বন্ধুত্ব হতো। যতো আমরা আধুনিক হচ্ছি, ততো তো কমে যাওয়ার কথা বিভেদ আর বিরোধগুলো, উবে যাওয়ার কথা ধর্ম, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা। কিছুই তো কমছে না, বরং মাঝে মাঝে মনে হয়, সবই বোধহয় বাড়ছে দিন দিন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত