প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোনো এক শিলাবৃষ্টির সন্ধ্যায়

ইকবাল আনোয়ার

চুলগুলো ঝুমকো ফুলের লতা হয়ে ঝুলে আছে। হাত দিয়ে সরিয়ে দিলেই টোল পড়া গাল দুটি ভেসে উঠবে। মায়া জমে জমে টইটুম্বুর, ফেটে যাবে যেন। থাক। এখন নয়। বালকবেলার সিকি পয়সা খরচ না করে হাতের মুঠোয় ভরে ঘুমিয়ে পড়ার মজা ধরে রাখাই হলো মজা। নিপুণ নর্তকীর মতো আঙুল নাচছে, পুতুল নাচের ভঙ্গিতে। কুশিকাটায় স্বর্গাগত নবাগত অতিথির জন্য ওলের টুপি বোনার আয়োজন। পেলব আঙুল ম্নানঘর থেকে ফিরে এলে ধরতে লাগে ভেজা বাচ্চা কবুতরের গতরের মতো।

তামান্না। এ কেমন জাদু নাম। যেন একটা পাতলা ফিনফিনে সাদা উড়না উড়ছে আকাশে। তার ভেতর থেকে লাল, নীল, সবুজ রাংতা উড়ে গিয়ে মিশে যাচ্ছে মেঘে। পেছনে হাত ঘুরিয়ে হুক লাগাতে গেলে অথবা চায়ে চিনি নাড়তে গেলে মুখের ভঙ্গিটা হয় জগতের শ্রেষ্ঠ গোলাপের মতো। ঠোঁট হলো পাঁপড়ি। চিবুক কমলার গায়ের মতো চকচকে, তখন গালের পাশে টোল পড়ে অদ্ভুত। এ দুটি টোল এক সমুদ্র নীল প্রবাল দ্বীপের বিনিময়েও বিক্রয়যোগ্য নয়, মাফ করবেন। দরদাম না করাই ভালো।

নাকের পাশের চিকন ঘাম হলো জমতে থাকা শিশু মুক্তা দানা। চোখ নিয়ে কী আর বলা- হারিয়ে যাবার ইচ্ছা ও ভয়। আত্মাহুতির জন্য সদা প্রস্তুত মন। সে বনে যদি প্রবেশ করেই ফেলো, পাবে দারুচিনি দ্বীপ, পাশে ঝরনা, নাইটেঙ্গেলের গান। সাবধান বুঝতে দিও না। তাহলে সব হারাবে, টোল বুজে যাবে। টোল বুজে গেলে মরমে মরে যাবে।

-কী দেখছ! তামান্নার ইঙ্গিত জড়ানো সদ্য স্নান ফেরত কণ্ঠে মিছে ভর্ৎসনার পৌরাণিক প্রশ্ন। যে প্রশ্ন কোনো ভ্যালেন্টাইন মানে না। প্রতিটি প্রেমিকা তার প্রেমিককে জিজ্ঞাসা করে হাজার বছর ধরে প্রেমের প্র¯্রবণে, আবহমান বাংলায়। প্রশ্নটা ঢাকতে গিয়ে পদ্ম পাতার মধ্যে যেমন বৃষ্টির জল লুটোপুটি খায়, তেমনি লজ্জার ফোটাটা তার বুকে লুকাবার জায়গা পায় না। বুক নয় বক্ষ। বক্ষ নয় জগতের সেরা স্তবক। খোদার কসম! এর চেয়ে পবিত্র সুন্দর আর কী দিবেন প্রভু। মহান ভাস্করের এক ঝলক মুনশিয়ানার চমক।

-‘শিলা বৃষ্টি’ উত্তর দেয় নাবিল। কোনো এক শিলাবৃষ্টির সন্ধ্যায় তামান্না যখন মিনি বারান্দায় কোচড়ে করে শিলা কুড়াচ্ছিলো, তখনই পাশের ফ্লাটের বারান্দা থেকে তাকে প্রথম দেখে সে, বেড়াতে এসেছিলো ময়নামতি জাদুঘর দেখতে। তামান্নারা তখন থাকে কুমিল্লায়। (অনু গল্প)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত