প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিজ্ঞান মানে চশমা পরা গোবেচারা ফার্স্টবয় নয়

মিলন ফারাবি

 

জিওর্দানো ব্রুনো এক বেপরোয়া খ্রিস্টান। যিনি কোপারনিকাসের নিষিদ্ধ বই লুকিয়ে পড়েন। যিনি বিপদকে অগ্রাহ্য করে সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে শুরু করেন নিকোলাস কোপারনিকাস ভ্রান্ত নন, সত্যিই পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। এরপর যেমনটা হওয়ার তেমনই ঘটে, ব্রুনো গির্জার কুনজরে পরেন, তারপর দেশান্তরী হন। যাজকের ছদ্মবেশে পাহাড়ি পথ দিয়ে তিনি চললেন সুইজারল্যান্ড, হাতে কোপারনিকাসের বই। তারপর ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আর জার্মানিতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে সত্যের ধারণা দিতে থাকেন। সেই খবর পেয়ে রোমের যাজকরা চর পাঠিয়ে কৌশলে তাকে ধরে আনে, বন্দি করা হয়। বিচারে তাকে বিনা রক্তপাতে মৃত্যুদ- দেয়া হয়, অর্থাৎ জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয় ৫২ বছর বয়সের জিওর্দানো ব্রুনোকে। শেষদিন তাকে জনসমক্ষে হাত-পা শিকলে বেঁধে নিয়ে আসা হয়, ধর্মের বিপক্ষে যাতে আর কিছু বলতে না পারেন তাই পেরেক ফুটিয়ে তার জিভ ঠোঁটে আটকানো। তখনও যাজকরা তাকে শেষ সুযোগ দিয়ে ধর্মের পক্ষে যেতে বলেন, কিন্তু তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সত্যকে নত হতে দেননি। ছাই হয়ে যায় লোহার স্তম্ভে বাঁধা এই শহীদ। ধর্ম যখন বিজ্ঞানকে বলে ‘রাস্তা ছাড়ো’, বিজ্ঞান সত্যের পথ ছাড়ে না। ধর্ম বললেই সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে না। একটা ব্রুনো মরলেই বাইবেলকে পরে ভুল স্বীকার করতে হয়। সত্য হার মানে না। সত্য সাধনের পথই বিজ্ঞান। বিজ্ঞান মানে চশমা পরা গোবেচারা ফার্স্টবয় নয়। বিজ্ঞান একটা অনবরত আন্দোলন। যে আন্দোলন সত্যের জন্য যেকোনো ঝুঁকি নেয়। আজও ব্রুনোর উত্তরসূরি ওদেশে অভিজিৎ রায়রা এদেশে দাভোলকার, কালবুর্গীরা খুন হয় ব্রুনোর হত্যাকারীদের উত্তরসূরি এ সময়ের ধর্মান্ধ জল্লাদ্দের হাতে। সংগৃহীত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ