প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিমের মধ্যে খাদ্যের সব উপাদানই বিদ্যমান ও পুষ্টিকর : ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

নাঈমা জাবীন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, ডিম অবশ্যই একটি প্রাকৃতিক পুষ্টিকর খাদ্য, যার মধ্যে খাদ্যের সব উপাদানই বিদ্যমান। সব বয়সের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম অত্যন্ত কার্যকর। শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি, হাড় গড়নে ও মেধার বিকাশে ডিম খুবই কার্যকর। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তিনি আরও বলেন, মহিলাদের শারীরিক চাহিদা পূরণে এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ডিম অত্যন্ত জরুরি। অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধেও ডিম উপকারী। ডিমের কুসুমে ‘কোলিন’ থাকে, যা মস্তিষ্কের বিকাশ ত্বরান্বিত করে, এমনকি মনোরোগ এবং আলঝেইমারের মতো রোগ কমাতে সহায়তা করে। ডিম গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য প্রধানতম প্রোটিন জোগায়। ডিমের প্রোটিন মানুষের মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ডিমে কোলেস্টেরল আছে বটে, কিন্তু তা রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে না। বরং রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (এইচ.ডি.এল) বৃদ্ধি করে। শুধু তাই নয়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ ডিম রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড অত্যন্ত কার্যকরভাবে কমায়। প্রতিদিন কুসুমসহ একটি করে ডিম খেলে হৃদযন্ত্র এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালনে কোনো ঝুঁকি নেই বরং তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ডিমের কুসুম রক্তকণিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা থেকে রক্ষা করে, লোহিত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন বৃদ্ধি করে এবং ব্রেইনের স্ট্রোক কমাতে সহায়তা করে। ডিমে এন্টিঅক্সিডেন্ট যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতায় সহায়ক। ডিমে আছে ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে, অন্ধত্ব দূরীকরণেও সহায়ক। ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন, জিয়াজেনথিন বয়সকালে চোখের মেকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। এটি চোখের ছানি কমাতেও সহায়তা করে। তিনি বলেন, ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘কে’ আছে। এটি রক্তের বিভিন্ন কাজে সহায়ক, হাড় শক্ত ও মজবুত করে এবং প্রজনন অক্ষমতা দূর করতে সহায়তা করে। সকালের নাস্তায় একটা সিদ্ধ ডিম খেলে পেটটা অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে, ক্ষিদে কম পায় ফলে খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেকের ধারণা কুসুম খেলে মোটা হয়ে যাবে, কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তা নয়। ডিমে রয়েছে প্রচুর শক্তি যা রক্তের শকর্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কিছুটা হলেও কার্যকর। ডিম নিয়ে রসালো কথার শেষ নেই, পরীক্ষায় খারাপ হলেই বলে ‘ডিম পাবে’, নেতিবাচক কোনো কথা হলেই বলা হয় ‘ঘোড়ার ডিম’, রাস্তায়, নাটকে বা অনুষ্ঠানে ক্ষুব্ধ হলেই জনতা ছুড়ে মারে ‘পচা ডিম’। তবুও সুস্বাস্থ্য এবং খাদ্যের জরুরি উপাদান এবং প্রোটিন গ্রহণের জন্য নিয়মিত ডিম খাওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক বা বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে মেধাবী, সুস্থ-সবল, উন্নত জাতি গঠনে ডিমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ডিম খাবেন, যদি সুস্থ থাকতে চান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত