প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিইসির ‘কাঠালের আমসত্ত্ব’ তত্ত্ব

সিইসির ‘কাঠালের আমসত্ত্ব’ তত্ত্ব

প্রভাষ আমিন : ১. মার্চ আমাদের স্বাধীনতার মাস। তবে এবার মার্চ মাস হতে যাচ্ছে নির্বাচনের মাস। ২৮ বছর পর হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন। ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে। ৫ ধাপে ৪৮১টি উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ৫ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে মার্চ মাসেই- ১০ মার্চ প্রথম ধাপ, ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপ, ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপ, ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। তবে পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে রমজানের পর। তবে একতরফা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। সবাই তাকিয়ে আছে ১১ মার্চের ডাকসু নির্বাচনের দিকে।

মানুষের আগ্রহ থাকুক আর না থাকুক নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে। ঢাকায় চলছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই কথা বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নানান নির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে সমস্যা হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার একেকদিন একেক কথা বলছেন। গত রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাচনে বড় দলগুলো অংশ না নেয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক না হলেও এই নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে অংশগ্রহণমূলক না হলে কিভাবে উপজেলা নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হওয়া সম্ভব, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। কাঠালের আমসত্ত্ব বলে একটা কথা আমরা শুনেছি, অংশগ্রহণমূলক না হলেও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন বোধহয় তেমন কিছু।

তবে মাত্র একদিনের মধ্যেই পল্টি মেরেছেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মঙ্গলবার ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, বড় দলগুলো অংশ না নেয়ায় উপজেলা নির্বাচন জৌলুস হারাচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে সিইসি বলে দিলেন, উপজেলা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে। রোববারে বললেন, অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না, মঙ্গলবার বললেন, অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। একদিনের মধ্যে কী হলো? বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো তো নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়নি। বড় দলগুলো অংশ না নেয়ায় রোববার হতাশ ছিলেন সিইসি। কিন্তু মঙ্গলবারেই হতাশা ঝেড়ে ফেললেন কীভাবে? বড় বড় দলগুলো না এলে এই নির্বাচনটি কীভাবে অংশগ্রহণমূলক হবে? আর অংশগ্রহণমূলক না হলে প্রতিযোগিতামূলক হবে? আবারও ‘কাঠালের আমসত্ত্ব’ তত্ত্বটিই মনে এলো।

২. এই প্রজন্মের মানুষ তাকে খুব একটা চেনে না। এমনিতেই প্রচারবিমুখ, তার ওপর অনেকদিন কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের মোহনপুরে নিভৃত জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু মুহম্মদ খসরু পুরো জীবন কাটিয়েছেন চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে। তাকে বলা হয়, বাংলাদেশে চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আন্দোলনটা তিনি শুরু করেছিলেন পাকিস্তানি আমলেই। তারপর চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখি, সংগঠন, চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা সম্পাদনা করেই কাটিয়েছেন গোটা জীবন। নব্বইয়ের দশকে আজিজ সুপার মার্কেট আর সাকুরায় বিরামহীন আড্ডায় কাটতো তার দিনের বড় সময়। তখন তার আড্ডায় মাঝে মাঝে সামিল হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। তার কিছুটা কুজো হয়ে হাঁটার ভঙ্গিটা এখনও চোখে ভাসছে। যারা মুহম্মদ খসরুকে দেখেছেন, তারা জানেন, চিরকুমার খসরু ছিলেন পাগলাটে, সারাক্ষণ রেগে থাকতেন, মুখে ছুটতো গালির তুবড়ি। তবুও বাংলাদেশে বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র বিকাশের পেছনের কারিগর এই মুহম্মদ খসরুই। তার আজিজের আড্ডাই ছিলো অনেকের চলচ্চিত্রের ক্লাস। চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে একটা মানুষের একটা জীবন কাটিয়ে দেয়া বিরলই বটে। সেই বিরল ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান ঘটেছে মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বারডেম হাসপাতালে। তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত