প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পদত্যাগ : নতুন ধান্দা

মাসুদ কামাল : জামায়াতে ইসলাম থেকে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগকে অনেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াতের রাজনীতির ভিত্তি এতে আরও দুর্বল হলো। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে অনেক মিডিয়া আবার বেশ কভারেজও দিচ্ছেন। কোনো কোনো পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রধান খবর হিসেবেও ছাপা হচ্ছে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের খবর। এই ভদ্রলোক ত্রিশ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। আরও বেশি সময় ধরে আইন পেশায় রয়েছেন।

আইন পেশায় তার বড় কিছু সাফল্যও রয়েছে। কিন্তু এক পদত্যাগের কারণে যতোটা গুরুত্ব তিনি মিডিয়াতে পাচ্ছেন, এর আগে কী তেমন কিছু কখনো পেয়েছেন? তাহলে এটাই কী তার এতোদিনের পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন? কী সেই অর্জন? তিনি জামায়াতে ইসলামী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন-এটিই যেন তার অর্জন।

তিনি ছিলেন এই দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। বেশ বড় পদ এটি। এতো বড় পদ থেকে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে বড় কোনো কারণ থাকার কথা। তিনি সেই কারণের কথাও বলেছেন। কারণ বেশ কয়েকটি, তবে সবচেয়ে বড় কারণটি হচ্ছে- জামায়াত কেন ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি? তিনি নাকি বারবার, এমনকি ২০০১ সালে জামায়াত যখন সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিলো তখনও জামায়াত নেতৃত্বকে বলেছেন, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা ব্যারিস্টার সাহেবের কথা শোনেননি। সেই না শোনার অভিমানে আঠারো বছর পর (তার হিসাবেই) তিনি পদত্যাগ করলেন!

এই আঠারো বছরে তিনি কিন্তু জামায়াতের হয়ে জামায়তের জন্য সার্ভিস কম দেননি। সর্বশেষ তিনি ছিলেন জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী শীর্ষ নেতাদের প্রধান আইনজীবী। তাদের হয়ে তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তিনি ট্রাইব্যুনালে অনেক যুক্তি দিয়েছেন, অনেক তথ্য, অনেক সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তার সেসব তথ্য বা যুক্তি ধোপে টেকেনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের সকলেরই সাজা হয়েছে। এখন যে রাজ্জাক সাহেব একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলছেন, সেই ব্যারিস্টার সাহেব কি ট্রাইব্যুনালে তার ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন? তিনি তো যুদ্ধাপরাধীকে নিরপরাধ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। সেই কাজগুলো কী তিনি ঠিক করেছেন? তিনি যদি নিজের নৈতিক আপরাধের জন্য ক্ষমটা আগে চেয়ে নিতেন, তাহলে দলের ক্ষমা না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হওয়াটা হয়তো তার জন্য কিছুটা মানানসই হতো।পাশাপাশি আরও একটা প্রশ্ন উঠতে পারে। আচ্ছা, জামায়াত যদি এখন একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, ব্যারিস্টার রাজ্জাক কী তাহলে তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করবেন?

আমি নিশ্চিত, তেমন কিছু হবে না। নৈতিক চেতনা, দলের ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ- এসবই আসলে বলার জন্য বলা। আসল ধান্দাটা অন্য জায়গায়। তিনি কী নতুন কোনো দল করতে যাচ্ছেন? নীতি-আদর্শ সবই থাকবে আগের মতো, বদলাবে কেবল মোড়কটা?

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত