প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিটিআরসি

নুর নাহার : বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্দেশনা দিয়েছে গ্রাহকরা প্রলুব্ধ হয় এমন বিজ্ঞাপন চালাতে পারবে না গ্রামীণফোন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা -বিটিআরসি দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনকে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা এসএমপি ঘোষণা করার পর এবার এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। বিবিসি নিউজ।

বিটিআরসির সহকারী সিনিয়র পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত পহেলা মার্চ থেকে কার্যকর করা হবে এবং এজন্য গ্রামীণফোনকে করণীয় ও বর্জনীয় ১৫টি বিষয় সর্ম্পকে জানানো হয়েছে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তারা বিটিআরসির নির্দেশনা পেয়েছে, তারা মনে করেন কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি উদ্ভাবন কিংবা বিনিয়োগ করার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।

সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার হচ্ছে – বিধান অনুযায়ী বাজার ক্ষমতা, একক বাজার হিস্যা, ষড়যন্ত্র কিংবা জোট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে। বাজার ক্ষমতা বা এসএমপি হলো কোনো বাজারে কতটা প্রভাবশালী টেলিকমের ক্ষেত্রে গ্রাহক, রাজস্ব ও তরঙ্গ ব্যবহারের দিক থেকে বাজারের ৪০ ভাগেরও বেশি হিস্যা হয়ে গেলে তাকেই এসএমপি ঘোষণা করা যাবে।

বিটিআরসির বিধানমালায় তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা বলতে এমন একক বা যৌথ ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে যার মাধ্যমে প্রতিযোগীর আচরণ নিয়ন্ত্রনে না নিয়ে এমন কাজ করা যায় যা প্রতিযোগীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তবে শুধু ফোন কোম্পানি নয় বরং টেলিযোগাযোগ খাতের সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

আর কোনো ধরনের কোনো মার্কেট কমিউনিকেশনস অর্থাৎ মার্কেটিং সম্পর্কিত কোনো প্রচারনা চালানো যাবে না যেমন -অফার বা প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দেয়া যাবেনা। এমনকি এসএমএস করে এমন গ্রাহকদের আর কোনো অফার দেয়া যাবে না।
বিটিআরসির মুখপাত্র জাকির হোসেন খান বলছেন, আমরা একটা মার্কেট ব্যালেন্স করার জন্য, বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতকে সুশৃঙ্খল প্রতিযোগিতা ও সবার জন্য সমান করার জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছি।

বাংলাদেশে টেলিকম খাতে সঙ্গত কারণেই গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্বের দিক থেকেও গ্রামীণফোন এগিয়ে আছে।
বিটিআরসি ঘোষণা করে, টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যবসায় মূলত কেউ এই প্রতিষ্ঠানের হাতে আর সেটি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে বিটিআরসি। এর অংশ হিসেবেই গত নভেম্বরে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতার জন্যই (এসএমপি) এই বিধান। ।

ওই প্রবিধানের ৭১১ ধারা অনুযায়ী, তিনটি নিয়মকের একটি যদি ৪০ ভাগের বেশি থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান এসএমপি ঘোষিত হবে। নিয়ামক তিনটি হলো- গ্রাহক, অর্জিত রাজস্ব ও তরঙ্গ।

গত ১০ই ফেব্রুয়ারি জিপি কে এসএমপি ঘোষণা করা হয়, কারণ জিপির গ্রাহকসংখ্যা মোট গ্রাহকের ৪০ ভাগের বেশি এই কোম্পানিটির।
জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংযোগ আছে ১৫ কোট ৩০ লাখের মতো এবং এর মধ্যে ৪৬ শতাংশই গ্রামীণফোনের।
গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি এসএমপির ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় ১৫টি বিষয়ে আলোকপাত করে বিটিআরসি চিঠি দেয় গ্রামীণফোনকে।এটি লঙ্ঘন হলে বিটিআরসি আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত