প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানসিক রোগের আরেক নাম ভিডিও গেম আসক্তি

নাঈম কামাল:সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করছে ভিডিও গেম আসক্তি একটি মানসিক রোগ। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গেমিং ডিজ-অর্ডার অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিবিসি

এই গেমে আসক্ত কোন কোন দেশ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার ড. ব্লাদিরিম জানান,আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে এরকম সমস্যা ও তার পরিনতি ভোগ করছে আফ্রিকা,ইউরোপ,কানাডা,ও আমেরিকার দেশগুলো। ফলে এটা একটা সার্বজনীন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক,জুয়া নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি ভিডিও গেম আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রও গড়ে উঠেছে সম্প্রতি। এসব নিরাময় কেন্দ্রে দিন দিন ভয়ানক আকারে আসক্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

এ নিয়ে কয়েকটি নিরাময় কেন্দ্রে অনুসন্ধানে নেমেছিল সংস্থাটি। তেমনি একটি জুয়া,ও ভিডিও গেম্স এর আবাসিক নিরাময় কেন্দ্র প্রাইমরোজ লজ। এ কেন্দ্রের থেরাপিষ্ট ‘ম্যাথু রিস’ জানায়, আগে জুয়া,ও মাদকের পাশাপাশি ভিডিও গেমে আসক্ত রোগীরাও আসতো এ কেন্দ্রে। সে সংখ্যা ছিল অনেক কম। কিন্তু বিগত দেড় বছর ধরে শুধু ভিডিও গেমে আসক্তের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

এ ধরনের গেমের প্রভাব কেমন হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কয়েকজন আসক্ত রোগীর ওপর অনুসন্ধান চালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অনুসন্ধান চালানো হয় পিটারের ওপর। তিনি এই ধরনের গেমে আসক্ত ছিলেন। তার হুস ফিরেছে তখন, যখন তার সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। তখন তার বয়স ৪০ বছর। তিনি প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় ফিরেই বসে যেতেন ভিডিও গেম খেলতে।

পিটার আরো বলেন,আমি অ্যাকশেন ও স্যুটিং গেম বেশি খেলতাম। আমি সারারাত ধরে গেমে মত্ত থাকতাম। এ সময় আমার দুটো বাচ্ছা ছিল। ফলে আস্তে আস্তে পরিবারে বড় ধরনের সমস্যা হতে থাকে। গেমের প্রভাবে আমি খুব ক্লান্ত থাকতাম। ফলে চাকরি থেকেও বরখাস্ত হই। এসব মনে পড়লে খুব বেশি লজ্জা লাগে আমার। পিটার গত চার বছর ধরে আবাসিক নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এসব আবাসিক কেন্দ্রের খরচ কয়েক হাজার ফাউন্ড হয়ে থাকে। তাই গেমিং ডিজঅর্ডার নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করছে সংস্থাটি।

যুক্তরাজ্য গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ট্রেড বোডির প্রধান নির্বাহী ড. জো. টুইস্ট। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন একটা ইন্ডাষ্ট্রি হিসেবে অনেকগুলো একাডেমি,গবেষক,মনোবিদ,এবং সমাজ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করতে হয় আমাদের। আর আমরা বিশ্বাস করি এটা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায় হয়ে গেছে গেমিং ডিজ-অর্ডার বলাটা। যেটার স্বপক্ষে শক্ত,নির্ভরযোগ্য,ও সার্বজনীন কোন প্রমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে আছে বলে আমারা মনে করি না। তবে গেমিংটা যেহেতু দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, এটা ঘিরে নতুন সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। যে সমস্যাগুলো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত