প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী মেজর জিয়া কোথায়?

এইচ এম জামাল: সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক দীর্ঘ প্রায় আট বছর আত্মগোপনে কোথায় আছেন তার কোনো ধারণাই করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায় হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে মেজর জিয়াকে চিহ্নিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ মেজর জিয়ার সম্পর্কে সুনিদিষ্ট কোনো তথ্য নেই আমাদের কাছে। তবে তিনি সক্রিয় থাকলে আমরা হয়তো তার অবস্থান সম্পের্কে নিশ্চিত হতে পারতাম।’ ঢাকা টাইমস

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আধ্যাত্মিক নেতা জসীমুদ্দিন রাহমানীকে গ্রেপ্তারের পর জিয়াউল হকের উগ্রপন্থায় সম্পৃক্ততার কথা জানতে পারেন গোয়েন্দারা। তারা বলছেন, মুক্তমনা লেখকসহ অন্তত নয়জনকে টার্গেট করে হত্যার নেপথ্যে ছিলেন এই চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা। এর বাইরে কয়েকজনকে হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ওই সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গুপ্তহত্যাসহ নানা পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন এই মেজর জিয়া। তিন বছরে তার তত্ত্বাবধানে এবিটির অন্তত আটটি স্লিপার সেল তৈরি হয়। প্রতিটি সেলের সদস্য সংখ্যা চার থেকে পাঁচজন। সেই হিসাবে অন্তত ৩০ জন দুর্ধর্ষ ‘স্লিপার কিলার’ জঙ্গি তৈরি করেছেন তিনি।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম এই মেজর জিয়া। সে সময় বেশ কয়েকজন ধরা পড়লেও পালিয়ে যান তিনি। পলাতক থেকেই দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিস্তারে অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন।

রাজধানী ও এর আশপাশে টার্গেট কিলিংয়ে জড়িত কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পরই জিয়ার নাম জানা যায়। এসব জঙ্গির মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পর্যালোচনা, ই- মেইল অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট ঘেঁটেও অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে ধরতে ২০ লাখ টাকা পুরষ্কারও ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হক।

জিয়ার পুরো নাম সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তার বাবার নাম সৈয়দ মোহাম্মদ জিল্লুল হক। গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুরে। আত্মগোপনে যাওয়ার আগে মিরপুর সেনানিবাসে থাকতেন।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীর সাবেক ও তৎকালীন কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থাানের চেষ্টা করে। পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে ছিলেন মেজর জিয়া। এছাড়া মেজর জিয়া জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও সেনা সদর দপ্তর জানিয়েছিল। এই অভ্যুত্থানচেষ্টার পেছনে ইশরাক আহমেদ নামে তার এক প্রবাসী বন্ধু যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত