প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মধ্যপ্রাচ্যগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে চলছে হয়রানি, টাকা দিলে সুস্থ, নইলে অসুস্থ!

হ্যাপি আক্তার : কাজের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ইচ্ছুক লোকজনের স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক। যা করাতে হয় গামকা অনুমোদিত রোগনির্ণয়কেন্দ্র থেকে। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে চলছে হয়রানি। টাকা দিলে সুস্থ, নইলে অসুস্থ! গাল্ফ এপ্রæভ মেডিকেল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন বা গামকা অনুমোদিত রোগ নির্ণয়কেন্দ্রগুলোতে। এছাড়া, রোগ থাকার পরও, এসব কেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে মেলে সুস্থতার সার্টিফিকেটও। চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

চট্টগ্রামে গামকা অনুমোদিত রোগ নির্ণয়কেন্দ্র রয়েছে ১২টি। যেখানে মাসে গড়ে ৫ হাজার মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। ‘হেপাটাইটিস বি’ ভাইরাস পজিটিভ মিরসরাইয়ের এক যুবক নির্ধারিত ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে ফিট রিপোর্ট নিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর মেডিকেয়ার মেডিকেল সেন্টার থেকে। আর এটি করেছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই। তবে, ওমানে যাওয়ার পর রোগ ধরা পড়ায় ৩ মাসের মাথায় দেশে ফিরে আসতে হয় তাকে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হয়রানির শিকার ফেনীর আরেক যুবক। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতারণার শিকার হয়ে সবশেষ সিলেটে বাড়তি টাকা দিয়ে ফিট সার্টিফিকেট নেন তিনি। হয়রানির শিকার ফটিকছড়ির নুরুল ইসলাম এবং রাউজানের গিয়াস উদ্দিনও।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, সেখান থেকে কল আসে রক্তে সমস্যা রয়েছে। তবে তাদের খুসি করতে পারলে সব কিছু ফিট করে দেবে।
শুধু তারাই নন, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যগামীরা। তাতে সবকিছু ঠিক থাকার পরও অসুস্থ দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আবার রোগ থাকা সত্তে¡ও টাকার বিনিময়ে মেডিকেল ফিট রিপোর্ট দেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। যা স্বীকারও করেন দালালদের কেউ কেউ।

এমন অনিয়মের কথা স্বীকার করলেও তার দায় নিতে নারাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলি।  মেডিকেয়ার মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের ব্যবস্থাপক রাশেদ আলী বলেছেন, মেডিকেল করা ছাড়া ফিট কার্ড নেয়া একেবারেই অসম্ভব। তবে দালাল চক্রের কিছু লোক এই ধরনের ফিট কার্ড আমাদের নামে তাদের দিয়ে দিচ্ছে।

হিউম্যান ডায়গনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের মহাব্যবস্থাপক মাহুদুর রহমান বলেছেন, ডুপ্লিকেট এমন রিপোর্ট অনেক পেয়েছি। আমাদের রিপোর্টটি স্ক্যান করে ওটা দিয়ে তারা কাজ করেছে।  তবে এমন অনিয়ম খতিয়ে দেখার কথা বলছে গামকার মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম মামুন। আর প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান বলছেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে কাউকেই ছাড় নয়।
চট্টগ্রাম গামকার মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম মামুন বলেছেন, ঢাকায় বিশেষ একটি সিন্ডিকেট আছে, যারা এই ধরনের অনিয়ম করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের ফিট দেখিয়ে বাহিরে যেতে সাহায্য করছে।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান বলেছেন, রোগ নির্ণয়ের যে জালিয়াতি তা মেনে নেয়া যায় না। তালিকাভুক্ত যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সবগুলো আবার রিভিজিট করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত