প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাবল ডিজিটে সুদে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আবু বকর : ডাবল ডিজিটে (দুই অংক) সুদে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে দেশিয় ২০ বেসরকারি ব্যাংক শিল্পোদ্যাক্তাদের ঋণের ক্ষেত্রে দুই অংকে সুদ আদায় করছে। এ ক্ষেত্রে এক অংকে সুদহারে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে সরকারি ব্যাংক। কিন্তু দেশিয় ৩২টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ২০টিই সুদহার এক অংকে আনতে পারেনি। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে এক অংকে সুদহার নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হয়। সরকারের নির্দেশনা জারির পর দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক আমানতের বিপরীতে সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনে। কিন্তু নির্দেশনানুযায়ী একমাত্র সরকারি ব্যাংক ছাড়া কোনো বেসরকারি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার ৯ শতাংশে নামায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সকল তফসিলী ব্যাংকের কার্যক্রম পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেছে। সরকারি ব্যাংকগুলো নির্দেশনানুযায়ী সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে। কিছু বেসরকারি ব্যাংকও সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছে। যেসব ব্যাংক এখনো ঋণ প্রদানে দুই অংক সুদ নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে।

উল্লে­খ্য, দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার এক অংকে নামানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। সুদহার কমানোর আশ্বাসে সরকার ব্যাংক মালিকদের সুবিধা করতে ব্যাংকের কর্পোরেট কর ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশও বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয়। এডিআর সমন্বয়ের সময়ও বাড়িয়ে নেন মালিকরা। তার পরেও বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা সরকারকে দেয়া কথা রাখেননি।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া কম সুদে আমানত না পাওয়ায় ঋণে সুদের হার এক অংকে নামানো যাচ্ছে না। কিছু ব্যাংক এক অংক সুদে ঋণ দেওয়া চালু করলেও অন্যদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে শিগগিরই অন্যান্য ব্যাংকগুলোও এক অংকে সুদে নেমে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টির মধ্যে সরকারি পাঁচ ব্যাংক অগ্রণী, সোনালী, জনতা, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংক বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্পেও পাঁচটি ব্যাংক একই হারে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু রূপালী ব্যাংকই ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করছে।

এ ছাড়া বেসরকারি আল-আরাফাহ্, বিসিবিএল, ঢাকা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল), এনআরবি গ্লোবাল, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক এক অংক সুদহারে ঋণ প্রদান করছে। কিন্তু এসব ব্যাংক কনজ্যুমার ক্রেডিট ঋণে এখনো দুই অংকে সুদহার নিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংক পুরোপুরি এক অংক সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করলেও বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক এখনো সেটি করতে পারেনি। এক বছর আগে বা ২০১৮ সালে উদ্যোক্তাদের দুই অংক সুদহারে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাতে হয়েছে। ঋণের চাহিদা বেশি থাকায় কোনো কোনো ব্যাংক নিজেদের ইচ্ছামতোও সুদ নিয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত