প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আল মাহমুদকে নিয়ে একটি পোস্ট এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন!

অসীম সাহা : ‘সোনালী কাবিন’-এর কবি আল মাহমুদকে নিয়ে তাঁর মৃত্যুর পরদিন মুখগ্রন্ধে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, যেখানে আমি বলেছিলাম, “আদর্শের বাইরে গিয়ে কবিতায় যারা শুধু নান্দনিকতা খোঁজেন, আমি তাদের দলে নই। তাই আল মাহমুদকেও আমি আদর্শের আলোকে বিচার করি।” এই পোস্টে আমি কি আল মাহমুদেকে নিয়ে কোনো অশালীন বা তাঁকে ছোট করে কোনো মন্তব্য করেছি? আশা করি, যারা বিবেচক, তারা ব্যাপারটা বুঝবেন। কিন্তু গত তিন দিন ধরে কিছু স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক লোকজন আমার কথার ওপর নয়, সরাসরি আমার দেহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এমন সব গালি দিচ্ছেন, যা শুধু কদর্য নয়, স্বাধীনতার চেতনারও পরিপন্থি। এমনকি গালিতে তারা এমন অশ্রাব্য শব্দও ব্যবহার করছেন, যা শুধু অশ্লীল নয়, মাতৃগর্ভে এরা জন্ম নিয়েছেন কিনা, সে-ব্যাপারেও সন্দেহ জাগার মতো। এরা যে কেউ স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির লোকজন নয়, সেটা এদের প্রতিটি শব্দ থেকে আবিষ্কার করা সম্ভব। এদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, দেশে কোনো সরকার নেই। আর থাকলেও তা আওয়ামী সরকার নয়। মনে হয় যেন জামাত-বিএনপির সরকার এখন ক্ষমতায়।

বিশেষত যিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, মোস্তাফা জব্বার, যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তিনি তো অনেক সময় ধরে অনলাইনে সক্রিয় থাকেন, তারও কি চোখে পড়েনি, কী ধরনের অশ্লীল ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য আমাকে নিয়ে দেয়া হয়েছে? ‘মালাউনের বাচ্চা’ থেকে শুরু করে আরো জঘন্য ধরনের ভাষা তারা ব্যবহার করেছেন, যা মোস্তাফা জব্বারের চোখে না পড়ার কথা নয়। সে-ক্ষেত্রে মোস্তাফা নিশ্চুপ কেন? একজন একুশে পদক পাওয়া কবিকেই যদি এ-ধরনের গালি দিয়ে পার পাওয়া যায়, তা হলে এদেশের সাধারণ সংখ্যালঘুদের অবস্থা কী, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তবে কি ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানের মিলিত রক্তধারার প্রবাহ মিথ্যে? বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন মিথ্যে? যদি মিথ্যে না হয়, তা হলে এমন প্রকাশ্যে তারা যা খুশি তাই বলে যাবেন, আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন না, তা হতে পারে না। যেসব স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক আমাকে গালি দিয়েছেন, জবাই করার হুমকি দিয়েছেন, তাদের নামগুলো উল্লেখ করছি। আমি দেখতে চাই, আইসিটি মন্ত্রী হিশেবে মোস্তাফা জব্বার এবং আমার সতীর্থ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ-ব্যাপারে কী ভূমিকা পালন করেন? নামগুলো হচ্ছে : আলী এরশাদ, আবু বকর সিদ্দিক মোল্লা, ফারদিন খান, প্রীতি পণ্ডিত (ছদ্মনাম), রহমান মোহাম্মদ মতিউর, আহম্মদ জামাল, নিঃসঙ্গ নক্ষত্র (ছদ্মনাম), কেকেবি কনক (ছদ্মনাম), শিপন সোহাগ, কাজী মুকুল, বদরুদ্দিন রব্বানী, ওয়াহিদুর রহমান, শাহিন শাহ শাহরিয়ার, তৌফিক মহিউদ্দিন, শিউলীমালা ঝরাবকুল (ছদ্মনাম), দুর্জয় রহমান, সালমান মিয়াজী, পিয়ারুল ইসলাম, মো. নাজমুল হক, সাইদ জুমন, লাবীব শাহেল, আল ফরহাদ, নাজমুল ইসলাম রায়হান, জালালউদ্দিন সিদ্দিক, মো. ডেভিড কৃষ্ণ বড়–য়া (ছদ্মনাম), হৃদয়ে বাংলাদেশ (ছদ্মনাম), সোহেল আহসান, এস. এ. জগৎ, কাজী মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ হাসানুর রহমান, নীলাদ্রি নীল (ছদ্মনাম), কবীর হোসেন, হাসান তারেক শিপন, নীল মাহমুদ, পলাশ সরকার, আল্লার গোলাম (ছদ্মনাম), মো. আনোয়ার হোসেন, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, আবদুল্লাহ আল ফারুক, ফাহমিদা লুনা, কাজী ওয়ালীউল্লাহ, মো. আবুল খায়ের, বেনজেন বেনজোয়েট (ছদ্মনাম), মোহাম্মদ মিজান, হুজাইকা মুহাম্মদ, আলিয়া নূর, হামিদুল হামিদ, রিমন আহমেদ, হৃদয়ে বাংলাদেশ (ছদ্মনাম), হায়াত মামুদসহ আরো অনেকে। এদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে ধরে নিতে হবে এর সঙ্গে ক্ষতাসীনদের কারো কারোর যোগাযোগ আছে। শেখ হাসিনার সরকারকে ব্রিবত করার উদ্দেশ্যেই এ-ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার অবতারণা করে সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘শূন্য সহশীলতা’ নিয়ে এদের মোকাবেলা করতে হবে। তা না হলে তারা শুধু আমার মতন একজন সাধারণ কবিকে নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকেও ছোবল দিতে দেরি করবে না। তার চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। মুখগ্রন্থে কিলার গ্রুপ যদি আমাকে হুমকি দিতে পারে, তা হলে তারা যে কোনো ধরনের কাজই করতে পারে।

মাননীয় নেত্রী, আপনিও কিন্তু ওদের টার্গেটের বাইরে নন। অতএব আগে থেকেই সতর্ক হোন এবং এইসব স্বাধীনতাবিরোধীকে এমন শাস্তি দিন, যাতে তারা আর পৃথিবীর আলো কোনোদিন দেখতে না পারে।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত