প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি এখন রাজনীতিতে নেই, মামলায় আছে

বিভুরঞ্জন সরকার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর বিএনপি এখন রাজনীতির মাঠে আরো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীন আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘরে বসে আছে বিএনপি। রুহুল কবির রিজভী আগে নিয়মিত সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতেন। এখন তাকেও বুঝি ক্লান্তিতে পেয়েছে। তিনিও আর বাকযুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছেন না। বিএনপি সমর্থক সংগঠনগুলো আগে আর কিছু না পারলে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করতো, নেতারা সেখানে গিয়ে ভাষণ দিতেন। গণমাধ্যমে তা প্রচার-প্রকাশ হতো। বিএনপি মানুষের নজরে ছিলো, সার্কুলেশনে ছিলো। এখন বিএনপিকে আর সেভাবে কোথাও খ্ুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় আওয়ামী লীগ মোটামুটি মাঠ ফাঁকা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন না ঠিকই, তবে তার সঙ্গে যারা লড়াইয়ে আছেন তারা কেউ সেভাবে আলোচনায় নেই। একটি নিরুত্তাপ নির্বাচন হচ্ছে। অথচ বিএননি অংশ নিলে একটি জমজমাট নির্বাচন হতো। জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন বিএনপি আলোচনায় থাকতো। বিএনপির বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছতো।

উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপি নেই। তারা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ প্রার্থী হলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়াসহ বেশ কিছু উপজেলায় বিএনপি সমর্থকরা নির্বাচন করছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। যারা নির্বাচন করছেন তাদের বহিষ্কার করা না করা বিএনপির ব্যাপার। তবে দলটি বর্তমানে যে সাংগঠনিক সংকটে আছে তাতে দল থেকে কাউকে বের করে দেয়া কতোটুকু সুবুদ্ধির পরিচায়ক হবে সেটা তাদের ভেবে দেখা দরকার।

দুটি দুর্নীতি মামলায় দ-িত হয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে না বলে দলের আইনজীবী নেতারাই বলেছেন। তাহলে কী করবে বিএনপি। আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে জেলের বাইরে আনার কথা বিএনপি নেতারা বলেন, কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। দেশে আন্দোলনের পরিবেশ নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা আছে বলেও মনে হয় না।

নির্বাচনের পর দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা দলের সিনিয়র নেতাদের দু’একজন বললেও তা সম্ভবত ক্ষমতাবান নীতিনির্ধারকদের সমর্থন পায়নি। বিএনপি মাঠে না থাকলেও কোর্টে আছে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা আছে। এসব মামলার কারণে অনেককেই নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হয়। আন্দোলনে বা দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলেও আদালতের বারান্দায় উপস্থিত থাকা এখন বিএনপির অনেক নেতার জন্য বাধ্যতামূলক। বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে নিজেরাই আদালতে গেছে। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মোট ৭৯ জন হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করেছেন। এই আবেদন যারা করেছেন তারা দলীয় সিদ্ধান্তেই এটা করেছেন। তবে এতে ঐক্যফ্রন্ট বা তার শরিকরা কীভাবে, কতোটুকু লাভবান হবে তা কারো কাছে পরিষ্কার নয়। নির্বাচনী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার কোনো নজির নেই। অতীতে একটা দুইটা মামলা হয়েছে তারই নিষ্পত্তি হতে সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এবার ৭৯টি মামলা শেষ হবে কতোদিনে কে বলতে পারে? জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বড় শরিক বিএনপি। বিএনপির ছয়জন এবং গণফোরামের দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই দূর্দিনে নির্বাচিত হয়েও তারা শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবশ্য গণফোরামের দুইজন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির ছয়জন শপথ না নিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে, সেসব আসনে নতুন নির্বাচন হবে। বিএনপি সংসদে না গেলে যদি সরকার পড়ে যেতো বা সংসদ বাতিল হয়ে দেশে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিতো তাহলেও না হয় তাদের শপথ না নেয়ার একটি যুক্তি খুঁজে পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন সংসদে না গিয়ে বিএনপির কী লাভ? তারা দেশে সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে ফেলবে? তারা যে কোর্টে মামলা করেছে তার ফলাফল যদি দ্রুত তাদের অনুকূলে আসে তাহলেই কী তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে? নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে মামলা হয়েছে, এই প্রচারণাটুকু ছাড়া আর কোনো ফায়দা বিএনপি পাবে বলে মনে হয় না।

বিএনপিকে রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই দল পুনর্গঠন করতে হবে। নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। তারেক রহমানকে দূরে রাখতে হবে। জামায়াতের ব্যাপারে মোহমুক্ত হতে হবে। জামায়াত এখন নিজের সমস্যায় নিজেই ডুবতে বসেছে। বিএনপিকে বিপদমুক্ত করার সাধ্য জামায়াতের নেই। বিএনপিকে রাজনীতির বাস্তবতা বুঝে পদক্ষেপ না নিলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত