প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রেপ্তারের ১৩ ঘণ্টা পর নারায়নগঞ্জের দুই কাউন্সিলরসহ ২২ জনের জামিন

অনলাইনস ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও মসজিদের পরিচালনা কমিটির হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরসহ ২২ জন আটকের ১৩ ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রথম আলো
সোমবার দুপুরে আসামিদের নারায়ণগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউসার আহম্মেদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে বিকেলে তাঁদের জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পৃথক দুটি মামলায় পুলিশ বর্তমান ও সাবেক দুই কাউন্সিলরসহ ২২ জনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল। আদালতে বাদী-বিবাদীরা তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে আপসের হলফনামা দাখিল করায় শুনানি শেষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। নগরের নিতাইগঞ্জ নলুয়াপাড়া এলাকায় দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না। এই কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় রোববার বাদ এশা মসজিদে সভা বসে। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে কাউন্সিলর কবির হোসেনের সমর্থক টিপুসহ বেশ কয়েকজন বর্তমান কমিটির কাছে হিসাব চান। এতে কামরুল হাসান মুন্না ও তাঁর পক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে টিপুসহ অন্যদের মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার জের ধরে রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপক্ষ অন্যপক্ষের ওপর অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে কাউন্সিলর কবির হোসেনসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। আহত লোকজনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

কাউন্সিলর কবির হোসেন বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। অপর দিকে কামরুল হাসান মুন্না বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে কাউন্সিলর কবির হোসেনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এই ঘটনার জের ধরে পুলিশ আজ ভোরে অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর কবির হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ মামলার আসামি ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত