প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামগ্রিক বৈষম্য দূরীকরণে এখনো ১০ শতাংশ কোটা বহাল রাখা জরুরি বলে মনে করেন বর্ণনা ভৌমিক

আমিরুল ইসলাম : নারীর প্রতি বৈষম্য দূর এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। নারীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন অনেক, কিন্তু সুযোগ ও অধিকারের বৈষম্যগুলো বড়। কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি, পরিবার- সমতার চ্যালেঞ্জ সবখানেই। নারীর প্রতি বৈষম্য কীভাবে দূর করা যায়? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক বর্ণনা ভৌমিক বলেছেন, সামগ্রিকভাবে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করার জন্য এখনো নারীদের শতকরা দশভাগ কোটা খুবই জরুরি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এখনো তার সঠিক কারণ জানানো হয়নি। ইউএনওর দাবি হচ্ছে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন যার কারণে তাকে ওএসডি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কানে গেলে সেটার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে এটা একটা বার্তা বহন করে। যেখানে বাংলাদেশে জেন্ডার বৈষম্য অনেকটা কমে গেছে প্রতিবেশী অন্য দেশগুলো থেকে, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক খাতে যদি নারীর প্রতি এখনো এ রকম বৈষম্য দেখতে পাই তাহলে এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে আমাদের অন্যান্য সেক্টরে কী ভয়ংকরভাবে বৈষম্য বিদ্যমান। সামগ্রিকভাবে যেটা করা যেতে পারে, সরকার যে নারী উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে সেটা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো সেটা সংসদে পাস হয়নি। যতো দ্রুত সম্ভব নারী উন্নয়ন নীতমালা কার্যকর করতে হবে। শতকরা দশভাগ যে কোটা ছিলো নারীদের জন্য সম্প্রতি সেটা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি এখনো মনে করি বাংলাদেশের নারীরা বর্তমানে যে অবস্থানে বিরাজ করছে তার জন্য এখনো শতকরা দশভাগ কোটা জরুরি। এছাড়া প্রতিটি সংস্থায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের মন মানসিকতা বদলানোর জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। পুরুষতান্ত্রিকতার কারণে আমাদের সমাজের নারীরা অনেকটা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার। আমাদের সমাজে যে পুরুষতান্ত্রিকতা বিরাজমান রয়েছে একদিনে তার গোড়া উৎপাটন সম্ভব নয়। যদি কোনোভাবে আমরা নারীর মানসিকতা বদলাতে পারি। শুধু নারীদের না, তাকে সহযোগিতা করার জন্য পুরুষেরও মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন। এর জন্য ট্রেনিং বা ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। মিডিয়াতে এ বিষয়ে অনুদান দিতে পারে। বিটিভি এ বিষয়ে কাজ করে যেতে পারে। শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে যে মানসিকতা বদলানো সম্ভব তা নয়। আমাদের পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা অনেক সময় দেখি বিভিন্ন এনজিওগুলোতে যখন কোনো নারী বা পুরুষ যোগদান করে তখন তাদের একটা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেখানে জেন্ডার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে বা স্কুল-কলেজে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেখতে পাই না। এটা খুব জরুরি। নির্দিষ্ট একটা উপায়ে নারী ও পুরুষের বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয় । অনেকগুলো পদ্ধতি একসাথে হলে কিছুদিন পর আমরা এর ফলাফল পাবো। যেমন গত ১০-১২ বছরে যে ১০ শতাংশ কোটা নারীদের দেয়া হয়েছে তার ফলাফল আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মকর্তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। সামগ্রিকভাবে নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করার জন্য এখনো নারীদের শতকরা দশভাগ কোটা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত