প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে অর্থপূর্ণ নির্বাচন দরকার : ড. শাহদীন মালিক

শিমুল মাহমুদ : আবারো একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত একাদশ জাতীয় সংসদ ‘নির্বাচন : পরবর্তী করনীয় শীর্ষক’ আলোচনা সভায় এই দাবি জানান। শাহদীন মালিক বলেন, এক ব্যক্তি ১৫ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করছেন বিশ্বে এরকম দেশের সংখ্যা প্রায় ৫০। এই ৫০টি দেশের মধ্যে দুইটা ধ্বংসের পথে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে দেশের অর্থ বাইরে চলে যাবে তাই আলাপ-আলোচনা করে একটা অর্থবহ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশে কখনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তার কোনও উদাহরণ বাংলাদেশে নেই। কিন্তু সরকারি দলের অধীনে নির্বাচনের একটা ধরণ আমরা দেখি, আবার এর বাইরে বের হয়ে নির্বাচনটাকে গ্রহণযোগ্য করার একটা চেষ্টা আমরা দেখি।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, আমি জামিনে আছি, এটা কিন্তু মুক্তি না। কিন্তু তার বাইরে একটা জিনিস রয়েছে। আমি যে দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি না, আমি মুক্ত না। আমি না হয় হাজত থেকে বেরিয়েছি কিন্তু এই ঘরে কেউই মুক্ত না। আরেকটি বিষয় হলো যারা সরকার কিংবা সরকারের পক্ষে কথা বলে তারা পরিস্কারভাবে অস্বীকার করে যায়। যেখানে লজ্জা নেই, স্বীকার করার প্রয়োজন নেই, তাকে তো দেখানোর কিছু নেই। আমার মনে হয় আমাদের স্ট্রাটেজিগুলো দাঁড় করাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কে এতো বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে, এতো বড় একটা অনিয়ম ঘটে গেছে, এতো বড় একটা প্রহসন ঘটে গেছে, এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। আপনারা ভাবতে পারেন আপনারা নির্বাচিত, কিন্তু জনগণ জানে কি ঘটেছিল সেই রাতে। কাজেই সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জনগণের প্রতিনিধিরা এবং সামাজিক চুক্তি বলে যে সেই চুক্তির নবায়ন ঘটাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক আসিফ নজরুল কমিটির নিবন্ধ পাঠ করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের অপ্রতুল সুযোগের মধ্যেও এতো কারচুপির যে গুরুতর আলামত রয়েছে এবং নির্বাচনের প্রচারণাকালে নজিরবিহীন যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে অসম্ভব করে তুলেছে। এমতবাস্থায় সংবিধান, গনতন্ত্র এবং মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেশে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনও বিকল্প নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত