প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা

প্রভাষ আমিন : গত ১০ বছরে সবচেয়ে সমালোচিত মন্ত্রীর নাম কী? এই প্রশ্নের এক ও অভিন্ন উত্তর হবে- শাজাহান খান। তিনি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ে তিনি ভালো-মন্দ কী করেছেন কেউ জানে না। তার আসলে নৌপরিবহণ নিয়ে কোনো আগ্রহ ছিলো না। তার সকল আগ্রহ ছিলো সড়ক পরিবহনে। সাবেক জাসদ নেতা শাজাহান খান বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। কিন্তু‘ তার মূল ব্যবসা সড়ক পরিবহন। তার সকল আয় ও ক্ষমতার উৎসও এই সড়ক পরিবহণ। তিনি মন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। মন্ত্রী হওয়ার পর তার সে পদ ত্যাগ করা উচিত ছিলো। কিন্তু করেন তো না-ই, বরং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের সব ধারণাকে দুমড়ে-মুচড়ে তিনি বারবার নাক গলিয়েছেন সড়কে। পরিবহণ শ্রমিকদের পক্ষে নির্লজ্জ দালালি করেছেন। গরু-ছাগলের ছবি চিনলেই চালকদের লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করেছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় কুৎসিত হাসি হেসে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছেন। তার এক হাসিতেই দেশজুড়ে গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়কের আন্দোলন সামলাতে পরে হিমশিম খেতে হয়েছে সরকারকে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভায় ছিলো দারুণ চমক। আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা সব নেতা বাদ পড়েছেন, বাদ পড়েছেন জোট-মহাজোটের শরিকরাও। কিন্তু শাজাহান খানের বাদ পড়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলো গোটা জাতি। কিন্তু দেখা গেলো সড়কের ওপর থেকে শাজাহান খানের অশুভ আছর যায়নি এখনো। রোববার বনানীর বিআরটিএ ভবনে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দেবে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে শাজাহান খানকে। শুনে আমার একটি বাংলা প্রবাদ মনে পড়েছে শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়া। তবে এটা ঠিক কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, সেটা শাজাহান খানের চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তিনি কি তার এতোদিনের তালুক বিগড়ে দিয়ে সত্যি সুপারিশ দেবেন?

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত