প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পানিবন্দি জীবন, তবে পানের পানি নেই

ডেস্ক রিপোর্ট : বর্ষা মৌসুম তো বটেই, অন্য যেকোনো সময়ও সামান্য বৃষ্টি হলেই মূল রাস্তাসহ অলিগলিতে পানি জমে যায়। নিত্যবর্জ্য আর কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত কালো পানিতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে বাসিন্দারা। সঙ্গে আছে মিল-ফ্যাক্টরির কালো ধোঁয়ার অত্যাচার। ওয়াসার সরবরাহ না থাকায় রয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। টিউবওয়েলের পানিও বাড়িওয়ালার কাছ থেকে কিনে নিতে হয়। তবে এলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছে স্থানীয়রা।

জলাবদ্ধতায় এমন অসহায় অবস্থা দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায়। বছরের পর বছর ধরে এমন চলছে। দেখার কেউ নেই। ওয়ার্ডটি গঠিত হয়েছে চাকদাহ, ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, রাজউক দ্বিতীয় পর্ব, মুন্সিখোলা তেলকল, পূর্ব কদমতলী, মোহাম্মদবাগ ও মেরাজনগর এলাকা নিয়ে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এখানে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচারণা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডের পাশেই ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান। সরেজমিনে গতকাল রবিবার ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে উঁচু রাস্তা থাকলেও পূর্ব কদমতলী, ঢাকা ম্যাচ কলোনিসহ আশপাশের এলাকাগুলো নিচু। ঢাকা ম্যাচ কলোনির কয়েকজন জানান, গতকাল সকালের বৃষ্টিতে তাদের এলাকা তলিয়ে গেছে। হাঁটুপানি জমে যাওয়ার পর কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি মো. হোসেন মেশিনের সাহায্যে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করেন। তার পরও কলোনির গলিতে পানি জমে আছে।

কালো ধোঁয়া আর জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার পরিবেশ এক কথায় ভয়াবহ। বিত্তশালী লোকজন এলাকা ছেড়ে জলাবদ্ধতামুক্ত এলাকায় চলে গেছে। এখানে দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের বাসই বেশি। কলোনিতে প্রবেশের সময় রাস্তার পাশের ড্রেন দিয়ে কল-কারখানার ময়লাযুক্ত কালো পানি গড়িয়ে যেতে দেখা যায়। পূতিগন্ধময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কলোনির বাসিন্দাদের মাঝে অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে।

কলোনির বাসিন্দারা জানায়, বর্ষা মৌসুম এলেই তারা ভয়ের মধ্যে থাকে। পুরো বর্ষা ধরেই তাদের ঘরের সামনে পানি জমে থাকে। ছোট শিশুদের স্কুলে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, কলোনিটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। প্রায় পরিবারেই রয়েছে ছোট ছেলেমেয়ে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা এতটাই বেড়ে যায় যে ঘর থেকে বের হওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে।

ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এখানে প্রায় সময়ই বাড়ির সামনে পানি জমে অথচ খাওয়ার পানির তীব্র অভাব। আমরা যারা এখানে বাস করি তারা ওয়াসার পানি পাই না। ফলে পানি কিনে খেতে হয়। যেসব বাড়িওয়ালা ডিপ টিউবওয়েল বসিয়েছেন তাঁদের কাছ থেকে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে পানি কিনে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এখন এই এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এখানে এবার ওয়াসার পানি আসবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের দুঃখের অবসান হবে।’ মুন্সিখোলা এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে যাওয়ার কারণে আমাগো এলাকার উন্নতি অইবো বইলা মনে করতাছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি মো. হোসেন বলেন, ‘৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করব। এ ছাড়া এলাকার অন্যান্য সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেব।’

আসন্ন নির্বাচনে ওয়ার্ডটিতে দুলাল হোসেন, রোকসানা আক্তার পারুল, আকাশ কুমার ভৌমিক, হাজী মো. হোসেন, শফিকুল ইসলাম লাটিমসহ আরো কয়েকজন কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত