প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণশুনানীর ভেন্যু পায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

শিমুল মাহমুদ : একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’র চিত্র তুলে ধরতে গণশুনানীর জন্য ফাঁকা তারিখ দেখে আবেদন করলেও গণশুনানী ভেন্যূ পায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ভেন্যু ঠিক করতে রোববার বিকেলে রাজধানীর আরামবাগ গণফোরামের কার্যালয়ে প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠকে বসে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি ও সমন্বয় কমিটি। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদদের জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব বলেন, যতো প্রতিবন্ধকতা আসুক না কেনো আমরা গণশুনানী করবো। সরকার যতই হল বন্ধ করুক ঘরে বাহিরে, যেখানে পারি আমরা করবো।

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আমরা গণশুনানী করব বলে সরকার আগে থেকে সারা মাস সব হল বুকিং দিয়ে রেখেছে। আমাদের কোন হল দেয়া হচ্ছে না। সরকারের সকল বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের আকাশের নিচে আমরা যেখানে জায়গা পাব আমরা সেখানেই গণশুনানী করব।

জেএসডির সভাপতি বলেন, ৩০ তারিখে যারা ভোট ডাকাতি করেছে তার শালক, আর ভোটাররা হলো দুলাভাই। নির্বাচনে দুলাভাইয়ের সাথে শালকরা তামাশা করেছে।

এসময় তিনি সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, গোপালগঞ্জ জেলা বাদ দিয়ে যদি লটারী করে যদি একটা কেন্দ্রে যদি ধানের শীর্ষের বিরোদ্ধে জিততে পারে আমরা রাজনীতি থেকে বিদায় নিবো।

তিনি বলেন, দেশের ৯৭ পারসেন্ট ভোট হলো টিপসই। অর্থাৎ বাংলাদেশে কোন শিক্ষিত মানুষ নাই। আমরা গণশুনানির মাধ্যমে ডিস্পলের মাধ্যমে জানাতে চাই বাংলাদেশে কোনো শিক্ষিত লোক নাই। তাই তারা টিপসই দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সকাল ১০ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত আমাদের গণশুনানী চলবে। আমরা আজ রাত থেকে আগামীকালের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের সকল নির্বাচনী প্রতিনিধির কাছে চিঠি চলে যাবে। নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করেছে, ইতিমধ্যে আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা যেনো গণশুনানীতে অংশগ্রহণ করে।

গণশুনানি সফল করতে সারা বাংলাদেশে ৩০০ নির্বাচনী এলাকা থেকে যারা আহত হয়েছে, যারা নিহত হয়েছে, জেলে ছিলো, জেলে আছে তাদের পরিবারকে এখানে আসতে আহবান করবো। সবচেয়ে অত্যাচার নির্যাতন যেসব এলাকায় বেশি হয়েছে তা গণশুনানিতে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

তিনি আরো বলেন, আগামীকাল সন্ধ্যায় আমাদের সমন্বয় কমিটি বৈঠক আছে, ১৯ তারিখ স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক হবে।

সভায় উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, গণস্বাস্থ্য ট্রাষ্টির সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক দলের সভাপতি, কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, গণদল চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী, হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, মোস্তাক আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, দফতর প্রধান, আজমেরী প্রধান ছন্দ্যা, ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া উইং এর প্রধান লতিফুল বারী হামিম প্রমুখ।

গণশুনানীর জন্য রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন, কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউট মিলনায়তন, গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ অথবা জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনকে স্থান হিসেবে বিবেচনা করেছিল ঐক্যফ্রন্ট।

জানা গেছে, পছন্দসই ভেন্যু না পেলে গণফোরাম অফিসের সামনে অথবা বিএনপির অফিসে গণশুনানী হতে পারে।

ফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, এই শুনানিতে একটা আদালত থাকবে, বিচারমঞ্চ থাকবে। গণশুনানীর মাধ্যমে ভোট ডাকাতি চিত্র বিশ্ববাসী ও দেশের জনগনের কাছে পরিস্কার করে তুলে ধরা হবে গণশুনানিতে ক্ষমতাসীন জোট ছাড়া ভোটে অংশগ্রহনকারী সকল দলকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা ভোটের সময় আহত হয়েছেন, যারা নিহত হয়েছেন তাদের স্বজনদের, যারা অপদস্ত হয়েছেন, যারা কারাবন্দি হয়েছিলেন তাদেরকে এই শুনানিতে আসতে বলা হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত