প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুশল পেরেরার মহাকাব্যিক ইনিংসে তৈরি হলো লঙ্কান ইতিহাস

আক্তারুজ্জামান : মহাকাব্যের স্রষ্টাকেই যদি মহাকবি বলা হয় তবে তো শ্রীলঙ্কার কুশল পেরেরা আজকের মহাকবি। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে মহাকাব্যের সৃষ্টি করেছেন কুশল। তার সৃষ্টিতে ভর করে ইতিহাস লিখেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। অসাধ্যকে সাধন করে ডারবান টেস্টে এক উইকেটে জয় পেয়েছে সফরকারী লঙ্কানরা। এই জয়কে সংখ্যায় বিচার করলে সেটা অন্যায় হবে। কেননা এই জয় আনতেই তো মহাকাব্য লিখতে হয়েছে কুশল পেরেরাকে।

৩০৪ রানের লক্ষ্য মাথায় রেখে তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান তুলে দিন পার করেছিল। ১২ রানে ক্রিজে নেমে কুশল চতুর্থ দিনে যে মহাকাব্য রচনা করবেন সেটা তখনো কেউ ভাবেনি। ১১০ রানে ৫ উইকেট পতনের পর ধনঞ্জয়াকে নিয়ে ৯৬ রানের জুটি গড়ে লঙ্কাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন পেরেরা। ধনঞ্জয়া ফেরার আবার হার যেন ছিল সময়ের অপেক্ষা। কেননা পরের ২০ রান তুলতে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন আরও তিনজন। ২২৬ রানে ৯ উইকেট স্কোর বোর্ডে। জয়ের জন্য তখনো দরকার ৭৮ রান!  এমন ম্যাচে শ্রীলঙ্কার পক্ষে পৃথিবীর কেউ বাজি ধরেননি। কিন্তু কুশল নামের কুশীলব যে ক্রিজে ছিলেন এবং তিনি যে মহামানব হবেন এটা কে ভেবেছিল?

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা বিশ্ব ফার্নান্দোকে নিয়ে গড়লেন ৭৮ রানের দারুণ এক জুটি। পাল্টে গেলো ইতিহাস। ডারবান টেস্ট জয় করে তবেই বীরের বেশে মাঠ ছাড়লেন কুশল পেরেরা। বিজয়োৎসবের জন্য যে মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছিল স্বাগতিকদের জন্য, সে মঞ্চেই আনন্দ-উল্লাসে মাতলো লঙ্কানরা।

ঐতিহাসিক জয়ের পর সফল জুটি কুশল-ফার্নান্দোর আলিঙ্গন। ছবি : ক্রিকইনফো

ফার্নান্দোকে নিয়ে ৯৫টি বল খেলেন পেরেরা। যার মধ্যে ৬৮টি বল খেলেছেন কুশল। দল জেতানো ৭৮ রানের জুটিতে ফার্নান্দোর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৬ রান। বাকি সব কুশলের। দল জিতিয়ে যখন ব্যাট উঁচিয়ে সারাবিশ্বের অভিনন্দনের জবাব দিতে দিতে মাঠ ছাড়ছেন তখন কুশলের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে অপরাজিত ১৫৩। ৩০৯ মিনিটের ব্যাটিং শেষে ২০০টি বল খেলে এই ইতিহাস সৃষ্টি করেন পেরেরা।

টার্গেটে খেলতে নেমে শেষ উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের মালিকও এখন ফার্নান্দো-কুশল জুটি। ১৯৯৪ সালে মুশতাক আহমেদকে নিয়ে ইনজামামুল হক ৫৭ রানের জুটি গড়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ করাচি টেস্ট জিতেছিল স্বাগতিক পাকিস্তান। ৫৭ রানের রেকর্ড ভেঙে ৭৮ রানের জুটির রেকর্ড গড়লো কুশল-ফার্নান্দো জুটি। এরই মধ্যে দিয়ে ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙলো শ্রীলঙ্কার এ দু’জন।

এমন মহাকাব্যিক ইনিংসের লিখিত কোনও বর্ণনা যে দিতে পারা যায় সেটা আমার জানা নেই। এই ইতিহাস লিখতে গেলে দরকার পড়বে কয়েকটি বইয়ের কয়েকশ পাতা। যেখানে থাকবে কৃতিত্বভরা কুশলের বর্ণনা।

বারবার বোলিং পরিবর্তন করেও কুশলকে পরাস্ত করতে পারেননি দ.আফ্রিকার কোনও বোলার। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৩৫ রানে অলআউট হয়েছিল স্বাগতিকরা। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। ৪৪ রানের লিড নিয়ে ২৫৯ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় দ.আফ্রিকার। ফলে জয়ের জন্য ৩০৪ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় সফরকারীদের।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক উইকেটে জয় লেখা হলো। এর আগেরটাও এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে ক্লোজ জয়ের তালিকাতে এই জয়টি তেরোতম জায়গায় স্থান পেয়েছে।

এই সিরিজের আগেই অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে দুয়োধ্বনি শুনে দলে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। পরিবর্তিত দল নিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেলো দিমুথ করুনারত্নের দল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত