প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই আ.লীগের

সমীরণ রায়: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে উজ্জীবীত আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষাণায় ফাঁকা মাঠেই গোল দিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৮৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে একক প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এরমধ্যে ৮৬ উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১১৩ জন। ফলে উপজেলায় কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও কোনো মাথা ব্যাথা নেই ক্ষমতাসীন দলটির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, আপাতত দৃষ্টিতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় রয়েছে আওয়ামী লীগ। শুধুমাত্র নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার ক্ষেত্র তৈরিতে এ ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারে এমন ধারণা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন সেটি নজরে রাখবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতেই উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় ৮৭টি উপজেলায় তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির তফসিল অনুযায়ী এসব উপজেলায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন১৯ ফেব্রুয়ারি। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ও আগামী ১০ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে।
জানা গেছে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দিলেও প্রতি উপজেলায় অন্তত এক থেকে দুই জন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম দফায় ৮৬ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১১৩ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী কুঁড়িগ্রামে। কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৩১, সুনামগঞ্জে ১০ উপজেলায় ২৪, রাজশাহীর ৯উপজেলায় ৬, নাটোরের ৬ উপজেলায় ৭, লালমনিরহাটের ৫উপজেলায় ৯, নেত্রকোণার ৯উপজেলায় ৬, জামালপুরের ৭উপজেলায় ৮ ও হবিগঞ্জের ৮উপজেলায় ৯ জন। তবে কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা। কেন্দ্র বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত না নিলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেও জানা গেছে।

এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল মনোনীত বা বিদ্রোহী প্রার্থী যেই জিতুক, তিনি আওয়ামী লীগেরই হবেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে যদি নৌকার প্রার্থী না জেতে, তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থী জিতবে। তিনিও তো আওয়ামী লীগেরই। বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এতে যদি দলে অভ্যন্তরীণ বিবাদ বাড়ে, তাতে বিএনপির লাভ কি? রেজাল্ট তো আর তাদের পক্ষে আসবে না।

উপজেলা নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আগে কাউকে বিদ্রোহী বলতে পারি না। নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উপজেলায় চেয়ারম্যান পদটি শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে আমাদের নৌকা প্রতীক দিয়েছি। এখানে আমরা উন্মুক্ত করিনি। আর যেহেতু ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, সেটা উম্মুক্ত রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত