প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অগ্নিকাণ্ডে জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই: মেয়র খোকন

শাকিল আহমেদ: বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নাশকতা প্রশ্ন উঠলেও শেষ পর্যন্ত সুরাহা না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করতে হয়। কড়াইল বস্তি, গুলশানের সিটি কর্পোরেশন মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে নাশকতার অভিযোগ জানানো হয়, কিন্তু সে সব ঘটনায় তদন্ত কমিটি কিংবা মামলা হলেও বিষয়গুলো সুরাহা হয়নি এমনকি অগ্নিকাণ্ডের কারণটাও জানা সম্ভব হয়নি বলে জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, ধনীদের পাশাপাশি দারিদ্রদেরও নিরাপত্তা দেয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যদি কোন ক্রাইম হয়ে থাকে তাহলে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা, অনুরোধ বা আহ্বান জানাবো, আপনারা অন্তত একটি ক্রাইমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘ফায়ার সেফটি এন্ড সিকিউরিটি ইস্যুজ ইন বাংলাদেশ, চ্যালেঞ্জ এন্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর এবং ইলেকট্রনিক্স সেফটি এন্ড সিকিউরিটি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইসাব)।

মেয়র বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হচ্ছে তাই গুণগত মান নিশ্চিত করতে এগুলোকে আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এছাড়া জনবহুল পুরান ঢাকার ক্যামিকেল গোডাউনগুলো একটা বড় সমস্যা। নিমতলি ট্রাজেডির পরই ক্যামিকেল গোডাউনগুলো সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সম্ভব হয়নি। চলতি সপ্তাহেই ঝুঁকিপূর্ণ ক্যামিকেল গোডাউনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন ক্যামিকেল ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, এক সুপ্ত আগ্নেয়গীরির উপর বিদ্যমান রাজধানী ঢাকা। সারা শহরের নিচে মাকড়শার জালের মতো গ্যাসের লাইন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ভূমিকম্পের মতো দূর্ঘটনা ঘটলে গ্যাসের লাইনগুলো বাস্ট হয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যা হবে তা আমাদের চিন্তার বাইরে। তাই খুব শীঘ্রই গ্যাস লাইনগুলোতে অটো সেন্সর স্থাপন করতে হবে। এ জন্য নগর সরকারের প্রয়োজন।

আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, যে কোনো দূর্যোগ বা দুর্ঘটনা রোধে এভাবে আয়োজন করে দু’একটি সভা-সমাবেশ করে কোন সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কারণ এ ধরনের আলোচনা সভার কোনো সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র কখনো গ্রহণ করেন না। তাই এসব আলোচনা কার্যকরী করতে চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পরবর্তী কার্যক্রম ঠিক করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা দুজন মেয়র পেয়েছিলাম যারা তাদের আইগত ক্ষমতার বাইরে গিয়েও নৈতিক দায়িত্ব থেকে কাজ করছেন এবং চমৎকার কাজ দেখাতে পেরেছে। তাই আমাদের সবাইকে এভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। যেহেতু আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নগর সরকার নেই, তাই আমাদের সরকার একজনই তা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এজন্য এরকম পরামর্শ ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে চূড়ান্তভাবে গৃহীত কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে তার নজরে আনতে হবে। এ কাজে মিডিয়ার ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী হবে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান তার প্রবন্ধ উপস্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, বুয়েট, পিডব্লিউডি, ওয়াসা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে করনীয় ও চলমান কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত