শিরোনাম
◈ রাশিয়ার শ্রমবাজারে বড় সুযোগ: ১ লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি মস্কোর ◈ কুমিল্লার নিমসার বাজার এলকায় অটোরিকশা শ্রমিকদের তাণ্ডব, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর (ভিডিও) ◈ যে কারণে ইসরায়েলে হামলার সময় ইরানের কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র! ◈ ব্যাংক অনুদানের অডিট ২০১৫-২৪: প্রধানমন্ত্রীর তহবিল ও হাসিনা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গেছে ১২৪৩ কোটি ◈ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে! ◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১১:৫৯ দুপুর
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১১:৫৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নীলক্ষেত ব্যারাক এখন কলাভবন

সমকাল : কলাভবন ও এর সামনের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য এখন বলতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক। তবে গত শতাব্দীর ষাটের দশকের আগে এ স্থানটিতেই ছিল সরকারি কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা। নীলক্ষেত ব্যারাক নামে পরিচিত ছিল এ এলাকা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অনন্য সাক্ষী এই স্থানটি। তবে এ ব্যারাকের কোনো চিহ্নই নেই এখন।

১৯৪৭ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের আবাসিক সমস্যা দূর করতে নীলক্ষেত ব্যারাক তৈরি করা হয়। বাঁশের তৈরি এ আবাসগুলো সেনাছাউনির মতো মনে হতো বলে এটি ব্যারাক নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রহত্যার পর নীলক্ষেত ব্যারাকের বাসিন্দারা সতঃস্ম্ফূর্তভাবে এর প্রতিবাদ জানান এবং আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বায়ান্নর আগে ১৯৪৭-৪৮ সালেও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে এর বাসিন্দারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

আহমদ রফিক তার 'একুশের দিনলিপি' বইয়ে নীলক্ষেত ব্যারাকের স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, 'এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কলাভবন ক্যাম্পাসের পাশ দিয়ে যেতে উপাচার্য ভবনের উল্টোদিকে রাস্তায় দাঁড়ানো মোটাসোটা গাছটি চোখে পড়ে। পঞ্চাশের একাধিক ঘটনার সাক্ষী গাছটি দেখে মনে পড়ে যায় এর উত্তর দিকে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে দাঁড়ানো বিশাল ছাউনির অনেক ক'টা নিয়ে গঠিত নীলক্ষেত ব্যারাক, সরকারি কর্মচারীদের বাসস্থান। একাধিক সময় সেখানে দেখা গেছে যেমন ভাষার অধিকার নিয়ে, তেমনি তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে সভাসমাবেশ এবং সভাশেষে প্রতিবাদী মিছিল, অনেকটাই অবিশ্বাস্য ঘটনা। ওই গাছের ঠিক উত্তরে একটি ব্যারাকে কিছু সময় অভিবাসীর মতো থাকতে হয়েছিল নতুন হোস্টেল ব্যারাক তৈরি বিলম্বিত হওয়ার কারণে। ছিলাম আমরা তিন চারজন সহপাঠী। সে সুবাদে জানতে পারি নীলক্ষেত ব্যারাকের বাসিন্দাদের ক্ষোভ, অসন্তোষের কথা। দু'একজনের মুখে শুনি, ১৯৪৭-এ তাদের ভাষাবিষয়ক প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের কথা।'

সময়ের প্রবহমানতায় নীলক্ষেত ব্যারাকটি এখন আর নেই। এমনকি এর কোনো স্মৃতিচিহ্ন বা ফলকও নেই। বিশাল সেই প্রাঙ্গণে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন ও প্রশাসনিক ভবন গড়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এ স্থান মুখর থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদচারণায়। কলাভবনের নিচতলায় অবস্থিত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ইসিয়াম বলেন, 'এখানকার ইতিহাস জানা নেই। তবে এর আগে বর্তমানে যেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ, সেখানে কলাভবন ছিল সেটি জানা আছে।'

নীলক্ষেত ব্যারাকের কোনো স্মৃতিচিহ্ন না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক,বলেন, সরকারি কর্মচারীরা তখন নিজেদের চাকরির মায়া ত্যাগ করে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেদিক বিবেচনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এ স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটি স্মৃতিফলক থাকা উচিত ছিল।

আহমদ রফিকের এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ  বলেন, এ ধরনের একটি স্মৃতিচিহ্ন থাকলে ভালো। তাতে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়