প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নদীতে চলমান উচ্ছেদ চলবে, সরকারের চেয়ে কোনো ব্যক্তি প্রভাবশালী নয়, সংসদে বললেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

আসাদুজ্জামান সম্রাট : বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পর্কে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেছেন, সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা যে উচ্ছেদ কাজ হাতে নিয়েছি সেখান থেকে পিছ পা হবার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের কাজ (উচ্ছেদ কার্যক্রম) অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

একই প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ বলেন, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী রক্ষায় ও এগুলোর দুষণ রোধে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আজকে যে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সমগ্র দেশবাসী এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। ঢাকার প্রতিটি মানুষ, নদী-গবেষক, পরিবেশবিদ ও গণমাধ্যমও এটাকে স্বাগত জানিয়েছে।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু নদীগুলোকে রক্ষার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। কিন্তু ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর এদিকে কেউ দৃষ্টি দেয়নি। আমরা নদীগুলোকে রক্ষা করতে পারিনি। অনেক নদী আজ মৃত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের গৃহীত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা নদীপথ প্রশস্ত করেছি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুটে আমাদের নদীপথকে সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিক খাতে যেন ভূমিকা রাখতে পারে, সেই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছোট-বড় সব ধরনের ৬৩৯টি নৌ দুর্ঘটনায় মোট ৪ হাজার ৭৩২ জন নিহত হয়েছেন। মেরিন কোর্টে উক্ত সময়ে নৌ দুর্ঘটনাসহ নৌযান পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য মামলা হয়েছে মোট ২৬ হাজার ৮৯৭টি। এরমধ্যে নৌ দুর্ঘটনায় মামলার সংখ্যা ৪৪৮টি। নৌ দুর্ঘটনায় ২০৪টি মামলার আসামীদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলো বিচারাধীন।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে নৌ প্রতিমন্ত্রী জানান, পাটুরিয়া সেক্টরে ২০টি, শিমুলিয়া সেক্টরে ১৮টি, চাঁদপুর সেক্টরে ৫টি, ভোলা সেক্টরে ৩টি ও লাহারহাট সেক্টরে ৪টিসহ বিভিন্ন ঘাটে মোট ৫০টি ফেরি রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি পরিচালিত বিভিন্ন রুটে-ঘাটে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। যার আওতায় দুটি উন্নতমানের কে-টাইপ ফেরি নির্মাণাধীন। এ দুটি ফেরি ২০১০ সালের জুন নাগাদ সার্ভিসে নিয়োজিত করা হবে।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিআইডব্লিউটিসি নিজস্ব অর্থায়নে ২টি মিডিয়াম ফেরি নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছে। যার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক জলযান সংগ্রহ, ৮টি সহায়ক জলযান এবং ২টি নতুন ‘স্লিপওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬টি ইমপ্রুভড ইউটিলিটি ফেরি ও ৬টি ইমপ্রুভড কে-টাইপ ফেরি নির্মাণ করা হবে। ফেরিগুলো নির্মাণ শেষে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সার্ভিসে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে।

নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ জানান, নৌ-পথের নাব্যতা রক্ষায় দেশের ২৫টি নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। পাবনা-১ আসনের শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজের সংখ্যা ৪টি। চলতি অর্থবছরে উদ্ধারকারী জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেই। তবে ২টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ধার ইউনিট সংগ্রহের জন্য বুয়েট কর্তৃক ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান আছে। স্টাডি শেষ হবার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পিরোজপুর-৩ আসনের জাপার এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে পরিচালনার জন্য বর্তমানে ২টি নতুন যাত্রীবাহী জাহাজ নির্মাণাধীন। এছাড়াও ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক জলযান সংগ্রহ, ৮টি সহায়ক জলযান এবং ২টি নতুন ‘স্লিপওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩টি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী জাহাজ, ৪টি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ এবং ৩টি রিভার ক্রুজার নির্মাণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত