প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘একটি জিনিস ভাড়া নিলে আরও একটি নিতে হবে’

মহিব আল হাসান: বর্তমানে ঢাকাই ছবির জন্য আতুর ঘর হিসেবে পরিচিতি বিএফডিসি। এই এফডিসিতে একটা সময় শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করতো অভিনয় শিল্পী থেকে কলাকুশলীরা। বর্তমানে এখন আর তেমন ব্যস্ততা নেই, হয় না আগের মতো শুটিং। মাঝে আশার আলো দেখা দিলেও তা দীর্ঘ সময় স্থায়িত্ব হচ্ছে না। বারবার অকালে ঝরে পড়ে যাচ্ছে এই শিল্প। আজ এফডিসিতে হচ্ছে না নিয়মিত শুটিং। দিনের পর দিন সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের হচ্ছে না পরিবর্তন। ফ্লোরগুলোতে নিয়মিত লাইট জ্বলছে না। প্রতিটি ফ্লোরই বেহাল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

বিএফডিসি ঘুরে জানা যায়, ‘এখানে পুরো মাস শুটিং হওয়া তো দূরের কথা মাসের ১০ দিনও শুটিং হয় না। কিছুদিন আগে শাকিব খান অভিনীত শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘শাহেন শাহ’ ও শাহীন সুমন পরিচালিত ‘একটু প্রেম দরকার’ সিনেমার শুটিং হয়। এরপর চিত্রনায়িকা মুনমুন ও আঁচলের ‘রাগী’ ছবির শুটিং হয় চারদিন। এই হচ্ছে এফডিসিতে চলচ্চিত্রের কাজের পুরো মাসের চিত্র।

গত মাসে মাত্র কয়েকদিন শুটিং ফ্লোর কর্মব্যস্ততায় পূর্ণ ছিল। তবে মাসের বেশিরভাগ দিনই ফাঁকা পড়ে থাকে সেসব। ছবি নির্মাণ ও মুক্তি কমছে, ব্যবসায়িক সফলতা নেই, শুটিং-ডাবিং না থাকায় ক্রমশ শ‚ন্য হয়ে পড়ছে এফডিসি।

চলচ্চিত্র নির্মাণের স‚তিকাগারখ্যাত এফডিসি ও বর্তমান চলচ্চিত্রের হালচাল নিয়ে প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বেশিরভাগ শুটিং ঢাকা, আশপাশের এলাকায় ও দেশের বাইরে হচ্ছে। প্রাইভেট কোম্পানিগুলো এফডিসির তুলনায় কম টাকায় শুটিংয়ের ক্যামেরা-লেন্সসহ অন্যান্য জিনিস ভাড়া দেয়। এফডিসি যে জিনিস তিন হাজার টাকায় ভাড়া দেয় তা প্রাইভেট কোম্পানি ২৫০০ টাকায় ভাড়া দিতে পারে। এজন্য এফডিসির ক্যামেরা ভাড়া নিতে চায় না অনেকেই।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শুটিংয়ের সরঞ্জামসহ শুটিং ফ্লোর ভাড়া বেশি। আর সেই সাথে এখানে একটি জিনিস ভাড়া নিলে আরও একটি নিতে হবে। এমন প্রক্রিয়ার কারণে এফডিসিতে শুটিং কমে গেছে। সেই সাথে এফডিসিতে দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের চেয়ে বিজ্ঞাপন ও টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণের কাজই বেশি চলছে। সংস্থার কয়েকটি ফ্লোর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের কাছে ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে।’

মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ একই কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছবিতে গল্পের খরা চলছে। ভালো গল্প দিয়ে দর্শকদের ফিরিয়ে আনতে হবে। তারপরও অনেকে সিনেমা নির্মাণ করছেন। হলে দর্শক সংখ্যা কমে গেছে। যদি এফডিসিতে অর্ধেক দামে সবকিছু ভাড়া দিয়ে সিনেমা তৈরি করতে সহযোগিতা করতো তাহলে অব্যশই সিনেমা ভালো একটা জায়গায় যাবে। এফডিসিতে শুটিং ব্যস্ততা আবারো ফিরে আসুক-এটাই

এদিকে কিছুদিন পর পরিবর্তন হবেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসার পর কিছু সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত