প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক জোটের পর এবার প্রতিরক্ষা সমঝোতার যুগে বাংলাদেশ

তরিকুল ইসলাম: সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের পর এবার প্রতিরক্ষা সমঝোতার যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে সম্পের্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মূলত সামরিক জোটে অংশ নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ প্রভাবশালী দেশ হিসেবে সৌদি আরব বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির শ্রম বাজারে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী কর্মী সেখানে কাজ করছেন। বাংলাদেশ দেশটিতে আরও বেশি জনশক্তি রফতানি করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত দুই চারবার সৌদি আরব সফর ছিলো অত্যন্ত ফলপ্রসু।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে তাতে বিবেচনায় থাকবে তিনটি বিষয়। অ্যাডভাইজরি, মাইন সুইপিং এবং সিভিল কন্সট্রাকশন। বিদেশে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পূর্বঘোষিত নীতিতেই অটল রয়েছেন। ব্লু- হেলমেট (জাতিসংঘ বাহিনী) ছাড়া বাংলাদেশ তার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাবে না। তবে মক্কা ও মদিনা আক্রান্ত হলে সেখানে সৈন্য পাঠাবে বাংলাদেশ।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী প্রধানকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সৌদি আরব-ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে। যা আজ (১৪ ফেব্রুয়ারী) হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইটি ব্যাটেলিয়নের প্রায় এক হাজার ৮০০ সেনা সদস্য মাইন অপসারণের কাজে নিয়োজিত হবে।

সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক, বেসামরিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক খাতে নিয়োজিত করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ চারজন কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সৌদি আরবের ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশনের (আইএমসিটিসি) কাছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু এবং ইয়েমেনে শিশু নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘে সৌদিকে সমর্থন জানানোর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সৌদির কাছে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ এবং গুরুত্বের মাত্রা বেড়েছে। যা বিগত কয়েক বছরের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টা অনুমেয়। এ ছাড়া সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্কের অবনতি হলে তখন সৌদিকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে দেশটির পাশে দাড়ায় বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোর থেকে বর্তমানে সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জাগায়টা বেশ গাঢ় হয়েছে। এর একটা কৌশলগত রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি। আন্তর্জাতিক ফোরামে সৌদির পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো সমর্থন বেশ বড় ধরনের উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত