প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবি’র গুলিতে ছাত্রসহ নিহত ৩, বিক্ষোভ-মানববন্ধনের একদিন পর লাশ দাফন

সাদ্দাম হো‌সেন, ঠাকুরগাঁও: বিজিবি’র গুলিতে ১জন কৃষক ও দুই ছাত্রসহ তিনজন নিহত এবং এস.এসসি পরীক্ষার্থীসহ ১৬জন আহতের ঘটনায় প্রতিবাদ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা বিভিন্ন গ্রাম । ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকার হাজারো মানুষ।

গতকাল বধুবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার চাকদা বাজার এলাকায় স্থানীয়রা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন জহুরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, সুজাউদ্দৌলা, আমেনা খাতুন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশীরা নিহত হচেছ। এবার নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারালো শিশু শিক্ষার্থীসহ তিনজন। তারা এ ঘটনার দায়ি ও খুনিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন।

উপজেলার বহরমপুর গ্রামে গরু জব্দ করা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সংঘর্ষে বিজিবির গুলিতে রুহিয়া গ্রামের সাদেক আলী (৪৫), দিনাজপুর সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মার্স্টাস শ্রেনীর ছাত্র মো. নবাব(২৭) ও চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র জয়নুল আবেদীন(১১)নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী আবুল কাশেমসহ ১৬ জন।

তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। বুধবার দুপুরে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় বহরাম ও রুহিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের লোকদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

সন্ধ্যার আগে নিহতদের মরদেহ এলাকার গোরস্থানে দাফন করা হয় । দাফন কাজে অংশ নেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম জে আরিফ বেগ, হরিপুর থানার ওসি আামিরুজ্জামান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তার আগে সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম জে আরিফ বেগ।

বকুয়া ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার বলেন রুহিয়া গ্রামের সাদেক আলী তার বড় মেয়ে স্মৃতির বিয়ের অনুষ্ঠানের টাকা যোগার করতে বাড়ির পোষা দুইটি গরু যাদুরাণী হাটে বিক্রি করতে নিয়ে যাচিছলেন। যাওয়ার পথে বেতনা বিওপির বিজিবির সদস্যদের গুলিতে নিহত হন । তিনি আর জানান- একই সময়ে নজরুল ইসলামের মার্স্টাস শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে নবাব হাটে যাচিছল। সেও বিজিবির গুলিতে প্রাণ হারায় । অপরদিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৫ম শ্রেনীর ছাত্র জয়নুল নিহত হয়।

বিজিবি কর্মকর্তাদের দাবি, সশস্ত্র চোরাকারবারিরা তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। এ কারণে আত্মরক্ষায় তারা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন। ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, ওগুলো ভারতীয় গরু সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা কোনো এক সময় সেগুলো নিয়ে এসেছিল। তারা বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তের দুই কিলোমিটার ভেতরে আমাদের টহল দল তাদের ধরে। গরুগুলো বিওপিতে নেয়ার সময় দুই-তিনশ লোক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তাতে আমাদের অস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আমরা গুলি করতে বাধ্য হই। এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট্র শীলাব্রত কর্মকার কে প্রধান করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন তিনি পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেছেন । এর জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করে নিন্দা জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত