প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম, অভিযোগ জানানো নিয়ে বিভক্ত ঐক্যফ্রন্ট

এস এম নূর মোহাম্মদ : গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যাতে নিরঙ্কুশ জয় পায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। ১ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় গেজেট। আর ৩ জানুয়ারি শপথ নেন বিজয়ী আওয়ামী লীগ জোট। তবে ৮টি আসনে বিএনপি জোট জয় পেলেও তাদের কেউ এখনো পর্যন্ত শপথ নেননি। গণ ফোরামের দুজন সদস্য শপথ নিতে চাইলেও তাতে সায় মেলেনি জোটের।

নির্বাচনের দিন থেকেই নানা অনিয়মের কথা বলে আসছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তাদের দাবি নির্বাচনের আগের রাতেই প্রায় সব কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে রাখা হয়েছিল। তাই ওই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে পালন করা হয়েছে নানা কর্মসূচিও।

যদিও সরকারি দলের নেতারা দুএকটি বিষয়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা আখ্যা দিয়ে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টের ৬টি একক বেঞ্চকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের বিষয়ে গেজেট জারির ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে ওই সময়। তবে কাল শুক্রবার হওয়ায় আজই শেষ দিন আবেদন করার।

এদিকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে বিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলার পর কেউ কেউ আবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও কেউ কেউ বলছেন আবেদন করে কোন লাভ হবে না, বরং নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে হবে এর মাধ্যমে।

ট্রাইব্যুনালে আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তখনই হয়, যখন কোন নির্বাচনে অনিয়ম হয়। আর পরাজিত প্রার্থী ট্রাইব্যুনালে মামলা করে থাকে। একাদশ সংসদের এটা কোন নির্বাচনই হয়নি। সারা বাংলাদেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। কথিত আছে নির্বাচনের আগের দিনই ব্যালট বাক্স্র পূর্ণ করা ছিল। সারা পৃথীবির মানুষ জানে ৩০ ডিসেম্বর কোন নির্বাচন হয়নি, নির্বাচন হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর রাতের বেলা। তাই ট্রাইব্যুনালে গিয়ে কোন প্রতিকার চাওয়া অর্থহীন বলে মনে করেন তিনি।

তারেক রহমানের নির্দেশের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি অন্তত মামলা করবো না। ৩০০ প্রার্থী মামলা করলে অন্তত ৩০ বছর লাগবে এটা চ‚ড়ান্ত হতে। নির্বাচনে যা হয়েছে তা সারা দেশবাসী জানে। ৩০ ডিসেম্বর কোন নির্বাচন হয়নি। ট্রাইব্যুনালে গেলে এর অর্থ হবে, নির্বাচনকে স্বীকার করে নেওয়া।

তবে দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অনেকে ব্যাক্তিগতভাবে মামলা করেছে। এখনও সময় আছে, আরও অনেকে করবে। প্রতি জেলা থেকেই একজন করে মামলা করার কথা জানান তিনি। আর দলের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এরইমধ্যে অনেকে মামলা করেছে। আর সময় শেষ হলে বিলম্ব দেখিয়েও আবেদন করা যাবে। এছাড়া মামলা করার কথা জানান গণ ফোরামের কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের বর্ধিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এ সরকারের আজ্ঞাবহ। মামলা ঠিকভাবে উপস্থাপন করলেও কমিশন তা খারিজ করে দিতে পারে। তাই মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর দল। বর্তমান সরকারের ব্যাপক দলীয়করণের কারণে মামলা করে কোনো ফল আসবে না বলেও জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত