প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্যাস সংযোগ বন্ধে ফুঁসছে সিলেটবাসী

মানবজমিন : গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় সিলেটে আবাসন খাতের বিপর্যস্ত অবস্থা। বিকিকিনি কমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। বিশেষ করে প্রবাসীরা নিজ শহরে বাড়ি তৈরির চিন্তা অনেক আগেই বাদ দিয়েছেন। প্রয়োজন থাকার পরও শুধু গ্যাস না থাকায় অনেকেই বাসা-বাড়ি তৈরি করছেন না। আর যারা গ্যাসের আশায় বাসা-বাড়ি তৈরি করেছেন তারা পড়েছেন বেকায়দায়। বহুতল ভবন নির্মাণ করে সিলিন্ডার নিয়ে উঠা-নামার দুর্ভোগের কারণে ভবন ব্যবহার করতে পারছেন না। এই অবস্থায় গ্যাসে ভরপুর সিলেটে গ্যাসের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। এরই মধ্যে গ্যাস সংযোগের দাবিতে সিলেটে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটির নাম দেয়া হয়েছে- ‘গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন, সিলেট’। এই কমিটির ব্যানারে ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মসূচি চলছে।

জালালাবাদ গ্যাসের হিসেব মতে- সিলেটে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের ডিমান্ডনোট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। টাকা জমা নিয়ে গ্যাস সংযোগের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হলেও সরকারি আদেশের কারণে সেগুলোর সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। ২০১৪ ও ১৫ সালের দিকে গ্রাহকরা টাকা জমা দিয়েছিলেন। তিন বছরের অপেক্ষায় এই গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে। নগরীতে আরো বিলাস বহুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন নতুন এলাকায় আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এই সংখ্যা এখন প্রায় ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আশা ছিল- গ্যাস সংযোগ চালু করা হবে। কিন্তু সেটি আর হচ্ছে না।

১৯৭৮ সালের দিকে জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানি সিলেটে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সংযোগ দেয়া শুরু করে। বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গ্রাহকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার। বিগত দুই দশকে সিলেটে গ্রাহক বেশি বাড়ে। পরিধি বেড়ে সিলেট নগরীর আকার বড় হওয়ার কারণে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি হয়েছে। ২০১৩ সালের দিকে কেবল সিলেট ছাড়া গোটা দেশে ব্যক্তি গ্রাহক পর্যায়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সিলেট গ্যাস উৎপাদনের অন্যতম এলাকা হওয়ার কারণে তখন সিলেটবাসী সরকারি ওই আদেশ থেকে রেহাই পায়। তবে ২০১৫ সালের দিকে এসে সিলেটেও নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করেছিলেন। দিয়েছিলেন টাকা জমাও।

সমাবেশে গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন, সিলেট-এর তথ্য মতে, সিলেট বিভাগে যেসব গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে সেগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযোজিত হচ্ছে। আর সব মিলিয়ে সিলেটের চাহিদা হচ্ছে আড়াইশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই চাহিদার মধ্যেও ২১৩ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার হয়। ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে। এর পরও সিলেটের মানুষে কাছে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। এদিকে- গত জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এই দাবি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন।

অন্তত সিলেটে নতুন করে গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে নির্বাচনী প্রচারণায় জানিয়েছিলেন। তাই এখনও আশা নিয়ে বসে আছেন সিলেটবাসী। সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রাহক পর্যায়ে যেসব ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হয়েছে সেগুলো নিয়ে কোম্পানির বিগত সাধারণ সভায়ও আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ অন্তত ইস্যুকৃত ডিমান্ড নোটের বিপরীতে গ্যাস সংযোগের পক্ষে মত দিয়েছেন। সব কিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর।

এদিকে সমাবেশে গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন, সিলেট’র সদস্য সচিব ও সমন্বয়ক জাফর আহমদ গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার বিষয়টিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, গ্যাস সংযোগ বন্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন সিলিন্ডার গ্যাস কোম্পানি। তাদের ব্যবসাকে বিস্তৃত করতে সরকারকে কাজে লাগিয়ে এটি করেছে। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে আছি এবং থাকবো। আগামী ৯ই মার্চ তারা সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গ্রাহক পর্যায়ে সমাবেশ করবো। গ্যাস সংযোগ চালু দাবিতে তারা সিলেটে মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধন কর্মসূচি সমাবেশে গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন, সিলেট এর আহ্বায়ক ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ধীরেন সিংহ এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর এর সঞ্চালনায় শুরুতে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক কে.এ. কিবরিয়া চৌধুরী। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, জেলা সভাপতি মো. আরিফ মিয়া, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর চৌধুরী, জাসদ মহানগর সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, জালালাবাদ গ্যাস কন্ট্রাকশন এসোসিয়েশন এর আমিনুর ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গ্যাস সংযোগ বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের ফলে সিলেট অঞ্চলের এক কোটি মানুষের জনজীবনে দুর্ভোগ-ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সিলেটবাসীর ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে শুধুমাত্র সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে। তারা বলেন, গ্যাস সংযোগ চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সিলেট সফরকালে গ্যাস সংযোগ চালু করার দাবি জানিয়ে তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সিলেট বিভাগীয় গণদাবি ফোরাম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত