প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশে অর্থ পাচারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টে

মানবজমিন : গত দুই দশকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের এক কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারের পূর্র্ণাঙ্গ তথ্যের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চেয়েছেন হাইকোর্ট। অর্থ পাচার বন্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাও জানাতে বলা হয়েছে আদালতের নির্দেশে। প্রতিবেদনে এক কোটি টাকার উপরে ঋণ খেলাপিদের নাম, ঠিকানাসহ তালিকা; অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে; ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এবং ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম হয়েছে, তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও জানাতে হবে।

জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ ও রুল জারি করেন। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গত মঙ্গলবার জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করে। এর আগে গত ২৩শে জানুয়ারি ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচার ও ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিল। আদেশে আদালত বলেছেন, দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক খাতে একটি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে গেছে।

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো সিকিউরিটি মানি নাই। যারা ঋণ নিচ্ছে তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কাটিয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার উপর জোর দিচ্ছে আদালত। রুলে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনের অনিয়ম, ব্যাংক ঋণের উপর সুদ মওকুফে অনিয়ম বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং গত ২০ বছরে সরকরি বেসরকারি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনের অনিয়ম, ব্যাংক ঋণের উপর সুদ মওকুফে অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিট আবেদনে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ড. সালেহ্‌ উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সিটি ব্যাংক এনএ বাংলাদেশের সাবেক সিইও মামুন রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন গঠন করার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, আইন সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থপনা পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)।

রিটের শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কয়েক বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা হতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন উপায়ে আত্মসাৎ হচ্ছে। আত্মসাৎ বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অথচ ওই অর্থ নাগরিকদের গচ্ছিত অর্থ। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়ায় আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও কমিশন গঠন করে এসব অনিয়ম তদন্ত করা হয়নি।

আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে যেসব অনিয়ম-ত্রুটি আছে সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জন্য রিটটি করা হয়েছে। আদালত যে তালিকা চেয়েছেন সেটি হাতে পেলে জানা যাবে কারা কারা ঋণ খেলাপি এবং অর্থ পাচারে জড়িত। এ বিষয়ে শুনানির সময় আমরা পরবর্তী নির্দেশনা চাইব।’

অর্থ পাচার বিষয়ে কী নির্দেশনা চেয়েছেন সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় যা দেখেছি, তাতে এক লাখ কোটি টাকার উপরে অর্থ পাচার হয়েছে বলে আমরা জানি। ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে এক-দুই লাখ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করছেন না। কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে কিন্তু বলা হয়েছে কত হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। যে যে দেশে অর্থ পাচার হয় সে দেশের কাছে পাচারকারীদের তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এ তথ্য সংগ্রহ করে আদালতকে জানাবেন।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত