প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইজতেমা নিয়ে ফেসবুকে উসকানি দিলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ইজতেমার বয়ানে কিংবা মাঠে কেউ কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না। কেউ কারোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য না দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। তারপরও কেউ উসকানি দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ময়দানে আমাদের সাদা পোশাকে যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপত্তাবাহিনী সজাগ থাকবেন। আপনাদের সেবার জন্য মন্ত্রী, এমপি, ডিসি, এসপি, আমরা সকলেই প্রস্তুত আছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ও অনেক দক্ষ। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এখন যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। কোন অপপ্রচারও যদি কেউ করে থাকেন তাকে আমরা এখন তাৎক্ষণিক সনাক্ত করতে পারছি। তাই সবাইকে অনুরোধ করব কেউ আপনারা উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য, বক্তব্য করবেন না, সে-টা ফেসবুক হউক আর সম্মূখে হউক। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার জন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তৈরি রয়েছে।

বুধবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি কাজের ফলো-আপ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওইসব কথা বলেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠনে অন্যান্যের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের আইজি মো. জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আহমেদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শাসসুন্নাহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা ইজতেমা মাঠে তাদের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ভিসা দেয়ার ব্যাপারে ভারতীয় দূতাবাস থেকে ভিসা সহজীকরণের আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই মারকাজের তালিকা অনুযায়ী যারা যারা ভিসার আবেদন করবেন তাদের সবাইকে ভিসা দিয়ে দেয়ার জন্য ভারতে আমাদের যে রাষ্ট্রদূত আছে তাকে আমরা বলে দেব। এছাড়া পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে যদি কোন মুসুল্লীর ব্যাপারে রিকুয়েস্ট থাকে তা আমাদের জানাবেন, আমরা ভিসার ব্যবস্থা করব।

উদাহরণ টেনে তিনি এক আমেরিকান ও আফ্রিকান একটি দেশের মুসুল্লীকে ভিসা দেয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এ ধরণের রিকুয়েস্ট থাকলে আপনারা লিখিতভাবে রিকুয়েস্ট আমাদের কাছে দেবেন, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব যাতে তাদের ভিসার কোন অসুবিধা না হয়। আপত্তিকর পোস্টার অপসারণ, মাঠে পানি ছিটানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় মেয়র ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মুরুব্বীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, দুই পক্ষের সমঝোতা স্মারক অনুয়ায়ী আপনারা চলবেন।

ইজতেমায় কে আসবেন কে আসবেন না তা আগেই কথা হয়েছে, এসব নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই। মন্ত্রণালয়ে সেই দিনের (দুই পক্ষের) ডিসিশন অনুযায়ী আপনারা লিস্ট পাঠান আমরা ভিসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সে দিনের কথা অনুযায়ী যারা ইজতেমায় আসতে চাননি তারা আসবেন না। তারপর আপনারা যদি মনে করেন আরো কাউকে আসতে হবে, আমাদের কাছে লিস্ট পাঠান আমরা তার ব্যবস্থা করব। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী দুই পক্ষের মুসুল্লীরা মাঠে আসবেন এবং মাঠ ত্যাগ করবেন। মাঠে নিরাপত্তা রক্ষায় ১৯ সদস্যের একটি নিরাপত্তা সেল গঠণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ প্রস্তুতি কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আগামি দুইদিনের মধ্যে তা শেষ হয়ে হবে। তিনি বলেন, ইজতেমায় সরকার কোন কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। সব ডিসিশন আপনার নেবেন, সবকিছু আপনারা করবেন। আমরা বাইরে থেকে আপনাদের যা যা প্রয়োজন তা আমরা ব্যবস্থা করব। আপনাদের কোন ধরণের অসুবিধা হবে না। আপনারা শুধু ওয়াদা পালন করুন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, এবারের বিশ্ব ইজতেমা নিশ্চিত করতে কঠিণ চ্যালেঞ্জ, কঠিন শপথ নেয়া হয়েছে। ইজতেমা নিয়ে সরকারের ইমেজ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেল বলেন, এবারের ইজতেমা অনিশ্চিয়তার মধ্যে চলে গিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এবারের ইজতেমার বাস্তবায়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ইজতেমা মাঠের সকল প্রস্তুতি সু-সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট, প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, তুরাগ নদী পারাপারে পল্টুনব্রীজ নির্মাণসহ সকল কর্ম সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইজি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ইজতেমায় অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। এবার ইজতেমা এলাকার ’নিরাপত্তার চোখ’ সিসি ক্যামেরা আগের চেয়ে বছরগুলোর চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও বেশি মোতায়েন থাকবে। থ্রেড কি আছে তা মাথায় নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি দুই পক্ষের ১০ দফা সমঝোতা স্মারক মেনে চলার অনুরোধ করেন।

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ইজতেমা শুরুর ১৫দিন আগে থেকেই ব্যাপক ইজতেমা এলাকায় ব্যাপক নজরদারি শুরু করা হয়েছে। ইজতেমায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তিনি মোনাজাতের পর মুসুল্লীদের সু-শৃঙ্খলভাবে মাঠ ত্যাগ করতে মূল মঞ্চ থেকে মুরুব্বীদের ঘোষণা দেয়ার অনুরোধ করেছেন। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইজতেমাকালে গাজীপুরের মূলসড়কে বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সড়কে যাতে যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত