প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিনয় গায়ত্রীর ভালোবাসার জানা গল্প

দেবদুলাল মুন্না : গায়ত্রীর প্রেমে পড়লো ঠাকুরনগরের ছেলে বিনয়। বিনয় পড়তো শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, গায়ত্রী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে, ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে। বিনয় প্রেসিডেন্সিতে প্রিইউ করেছিলো। বিনয় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হলো মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। গায়ত্রীও ইংরেজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, অনার্স (প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে সুবর্ণ পদকপ্রাপ্ত ) ও এম এ (আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নম্বরসহ )।

বিনয় কবিতা লিখতো। গায়ত্রীকে নিয়ে। কর্মসূত্রে কিছুদিন ছিলো দুর্গাপুরে । গায়ত্রী চলে গেলো বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায়। পিএইচডি করলো। ‘ঈধহ ঃযব ঝঁনধষঃবৎহ ঝঢ়বধশ?’… তার বিখ্যাত গবেষণা বই। কিছুদিনের জন্য বিয়ে করলো জনৈক ট্যালবট স্পিভাককে। নাম হলো গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। গায়ত্রী আমেরিকায় চলে যাওয়ার আগে তিন-চারদিন বিনয়ের সঙ্গে দেখা হলো কলেজ স্ট্রিটে বইপাড়ায়, কোনোদিন কফিহাউসে। চায়ের কাপে ধোঁয়া উড়লো। বসে গল্পও হলো।

কিন্তু কেউই ভালোবাসার কথা বললো না। গায়ত্রী চলে যাওয়ার পরে বিনয় আর কিছুই করেনি। না বিয়ে,না চাকরি। কবিতা লেখা, মাঝেমধ্যে পাগলা গারদে যাওয়া, এর-ওর বাসায় আশ্রয় নেয়া ছাড়া। গায়ত্রী এখন সাব-অলটার্ন স্টাডিজের অনেক বড় তাত্ত্বিক গবেষক । বিনয় মরে গেছেন। মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। কলকাতার অদূরে শিমুলতলী একটা গ্রামে থাকতো। বিয়েথা করেনি। সারাদিন অন্ধকার ঘরে কাটাতেন। প্রথম প্রথম সুনীল, শক্তি, শ্যামল ওরা গিয়ে দেখতেন। সে কারোও সাথে মিশতেন না তেমন। সন্ধ্যার পর শুধু একটা চায়ের দোকানে এসে চা খেতেন। আর আকাশ দেখতেন। নক্ষত্র দেখতেন। এরপর ফিরে যেতেন আবার অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘরে। মরে যাওয়ার আগে দুটি পুরস্কার নিয়ে তিনি মুচকি হেসেছিলেন ।

বিনয় মজুমদার, গায়ত্রীর জন্যই লিখেছিলেন, ‘ফিরে এসো চাকা’…শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, চাকা মানে চক্রবর্তী, মানে গায়ত্রী।
নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে অকৃতদার বিনয় লিখেছেন :

তার একটি কবিতা …
‘আমরা দু’জনে মিলে জিতে গেছি বহুদিন হলো।
তোমার গায়ের রং এখনো আগের মতো, তবে
তুমি আর হিন্দু নেই,খ্রিস্টান হয়েছো।
তুমি আর আমি কিন্তু দু’জনেই বুড়ো হয়ে গেছি। আমার মাথার চুল যেরকম ছোট করে ছেঁটেছি এখন
তোমার মাথার চুলও সেইরূপ ছোট করে ছাঁটা,
ছবিতে দেখেছি আমি দৈনিক পত্রিকাতেই, যখন দু’জনে
যুবতী ও যুবক ছিলাম
তখন কী জানতাম বুড়ো হয়ে যাবো?
আশা করি বর্তমানে তোমার সন্তান নাতি ইত্যাদি হয়েছে।
আমার ঠিকানা আছে তোমার বাড়িতে,
তোমার ঠিকানা আছে আমার বাড়িতে
চিঠি লিখবো না,
আমরা একত্রে আছি বইয়ের পাতায় ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত